অটোগ্রাফ দেয়া? কিশোর বলল, আমি কমিক সংগ্রহ করি না, তার পরেও আমি জানি আইজাক হুফার কোন ক্রিমসন ফ্যান্টম বইতে সই করেনি। এডগার ডুফার আমাকে সমস্ত গল্প বলেছে। আমি নিজের চোখে দেখেছি, হুফার সই করেনি।
তুমি ঠিকই বলেছ, ডিকসন বললেন। গোঁফের নিচে দেখা দিল এক চিলতে হাসি। তবে সে যাতে সই করেছে, তাতে ছিল ফ্যান ফান আর গ্রে ফ্যান্টম। ক্রিমসন ফ্যান্টমের অনেক আগে আঁকা হয়েছিল ওই কমিক। আমার মনে হয়, বোরামের সঙ্গে গন্ডগোলের আগে ওই অটোগ্রাফ দিয়েছিল হুফার। হঠাৎ করেই মিলিয়ে গেল হাসিটা। চুরি করে নিয়ে গেল শয়তান চোরটা।
চিন্তিত ভঙ্গিতে নিচের ঠোঁটে চিমটি কাটল একবার কিশোর। হুফারকে ওটা দেখানোর সুযোগই আপনি পাননি, তাই না?
মাথা নাড়ল ডিকসন। বইটা চুরি হওয়ার আগে দেখাই হয়নি ওর সঙ্গে আমার। আর যখন হলো, তখনও তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলাম না। বরং জড়িয়ে গেলাম ডুফারের সঙ্গে।
কেশে গলা পরিষ্কার করলেন ডিকসন। তিন গোয়েন্দার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তো, আমাকে নিয়ে কি করবে?
কাল রাতের কথা জিজ্ঞেস করছেন তো? কিশোর বলল, ওই যে, যে সব ছোটখাট শয়তানিগুলো করলেনঃ জোর করে লোকের ঘরে ঢোকা, মারধর করা, গাড়ি চাপা দেয়ার চেষ্টা, এসব?
হ্যাঁ, ঘামতে শুরু করেছেন ডিকসন। ওগুলোর কথাই বলছি।
শ্রাগ করল কিশোর। আমরা অভিযোগ করব না। আপনি হেডলাইটটা ঠিক করে নিন। থানায় গিয়ে বড়জোর একটা এন্ট্রি করিয়ে নিতে পারেন, বাড়ি লেগে ওটা ভেঙেছে।
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন ডিকসন।
কিন্তু রবিন আবার চিন্তায় ফেলে দিল তাঁকে। বলল, তবে মিরিনা যদি পুলিশকে রিপোর্ট করে, বিপদে পড়বেন। আমাদের না জানিয়ে হয়তো যাবে না। কিন্তু যদি যায়, কি বলবেন পুলিশকে, ভেবে ঠিক করে রাখবেন।
কিশোর আশা করল, পুলিশের কাছে না যাওয়ার জন্যে বোঝাতে পারবে মিরিনাকে। তবে সেকথা বলল না ডিকসনকে।
শুকনো হাসি হাসলেন কমিক বিক্রেতা। দেখা যাক, কি হয়। আমি স্টলে যাচ্ছি। প্রয়োজন পড়লে ওখানে দেখা কোরো আমার সঙ্গে। পারলে মিরিনাকেও নিয়ে এসো। সব কথা তাকে বুঝিয়ে বলে মাপটাপ চেয়ে নেব, যাতে পুলিশের কাছে না যায়।
সেটাই করবেন, মুসা বলল। এলিভেটরের বোতাম টিপে দিয়ে কিশোরকে জিজ্ঞেস করল, এরপর কি করছি আমরা?
চলো, হুফারকে খুঁজি। অটোগ্রাফের ব্যাপারটা আলোচনা করা দরকার।
লবিতে উঠে এল ওরা। মেইন কনফারেন্স রুমের দিকে চলল। প্রবেশ পথের কাছে, টেবিলের সামনে কমিক ক্রেতাদের ছোট একটা লাইন। ওদের হাতে সিল মেরে দিচ্ছে দুই রঙা চুলওয়ালা মেয়েটা।
দ্রুত স্টলের দিকে চলে গেলেন ডিকসন। তিন গোয়েন্দা গেট পেরোতে যেতেই ওদেরকে আটকাল বিশালদেহী সেই দারোয়ান। সরি। হবে না।
হাতের ছাপ দেখাল কিশোর।
এটা তো কালকের, দারোয়ান বলল। মুছে গেছে। যাই হোক, চেষ্টাটা ভালই করেছিলে। পারলে না আরকি। আমাকে ফাঁকি দেয়া অত সোজা না।
মানি ব্যাগের জন্যে পকেটে হাত ঢোকাল কিশোর। দেখুন, টিকেটের পয়সা মারার কোন ইচ্ছেই আমাদের নেই। জানতাম না। আমরা মনে করেছিলাম, একদিন টিকেট করে নিলেই হবে।
কয়েক মিনিট পরে, হাতের উল্টোপিঠে ইন্টারকমিকন-২ ছাপ মেরে কনভেনশন রুমের ভেতরে ঢুকল তিন গোয়েন্দা। ভিড়ের ভেতর দিয়ে পথ করে এগোল।
কোথায় পাওয়া যাবে হুফারকে? মুসার প্রশ্ন।
টেবিলের কাছে গিয়ে দেখি, কিশোর বলল। ওখানে না পেলে দোকানদারদের জিজ্ঞেস করব। কেউ হয়তো বলতে পারবে।
হুফারের সীট খালি।
অনেককেই জিজ্ঞেস করা হলো-দোকানদার, হুফারের ভক্ত, কিন্তু কেউ বলতে পারল না লোকটা কোথায় আছে। এমনকি অন্যান্য আর্টিটেরাও জানে না ও কোথায় আছে। পেন্সিল দিয়ে ওয়াকি উডেন্টের ছবি আঁকছেন একজন বৃদ্ধ আটিস্ট। প্রশ্ন শুনে বললেন, একটু আগে তো ছিল। কোথায় যে গেল…কিছুই বলে যায়নি।
এবার? কিশোরকে জিজ্ঞেস করল রবিন।
এসব ক্ষেত্রে, মাথা চুলকে জবাব দিল কিশোর, হোটেলের রিসিপশনিস্টকে জিজ্ঞেস করলে ফল পাওয়া যায়।
না, মাথা নেড়ে বলল রিসিপশন ক্লার্ক, এখন তার সঙ্গে দেখা করতে পারবে না। জরুরি একটা মীটিঙে রয়েছেন।
কখন দেখা করা যাবে, জানতে চাইল কিশোর। বলেছেন কিছু?
হয়তো আজ বিকেলে কোন এক সময়, জানাল রিসিপশনিস্ট।
তার জন্যে কি একটা মেসেজ রেখে যেতে পারব? রিসিপশনিস্ট সম্মতি জানালে তার কাছ থেকেই কাগজ আর কলম নিয়ে নোট লিখে ভাঁজ করে, সেটা দিয়ে বলল, মুখে বলবেন, আমরা তার সঙ্গে ম্যাড ডিকসনের স্টলে দেখা করব।
হুঁ, মাথা দুলিয়ে মুসা বলল, এখন আমরা জানি, বিকেলটা কোথায় কাটাতে হবে।
আবার কনভেনশন হলে ফিরে চলল ওরা। ওদেরকে দেখে অস্বস্তি ফুটল ডিকসনের চোখে। মেয়েটা এল না?
কথা বলিনি এখনও। কোথায় গিয়েছিল, জানাল কিশোর। ডিকসনকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, ভাববেন না, ব্যবস্থা একটা হবেই।
এই সময় একটা ছেলেকে আসতে দেখা গেল। বিরাট একটা বাক্স হাতে, কিশোর যে বাক্সটা এনেছিল, তার চেয়ে অন্তত তিন গুণ বড়। ভারের চোটে বাঁকা হয়ে গেছে ছেলেটা, হাঁটতে পারছে না ঠিকমত। ওদেরকে বললেন ডিকসন, আমার ব্যবসা আসছে মনে হয়।
টেবিলের সামনে এসে বাক্সটা মেঝেতে নামিয়ে রাখল ছেলেটা। চোখে সন্দেহ নিয়ে তাকাল ডিকসনের দিকে। টেবিলে হেলান দিয়ে মৃদু হাঁপাতে লাগল ছেলেটা। স্লাইম ম্যান নম্বর ওয়ান আছে? দ্য আউরেজিয়াস ওজনের নম্বর ওয়ান এবং নম্বর টু পেয়ে গেছি। স্নাইম ম্যানটা দরকার।
মাথা ঝাকালেন ডিকসন, আছে।
পেছনের র্যাক থেকে স্নাইম ম্যানের একটা কপি নামাতে গেলেন তিনি। ছেলেটা বাক্সটা তুলে ধপাস করে ফেলল টেবিলের ওপর। এ কমিকটা ছেলেটার হাতে দিতে গিয়েই চিৎকার করে উঠলেন ডিকসন, ধর, ধর! তবে কিছু করার আগেই পড়ে গেল কোলপসিবল টেবিলটা।
দূর, কাণ্ডটা কি করলাম! দাঁড়ান, আমি ঠিক করে দিচ্ছি, বলে হাঁটু গেড়ে বসে বই তুলতে শুরু করল ছেলেটা।
ডিকসন আর তার সহকারী মিলে আবার টেবিলটা খাড়া করতে লাগলেন।
জমাতে জমাতে এক জায়গায় কমিকের স্তূপ করে ফেলল ছেলেটা। তারপর নিজের বাক্সটা ঠেলে সরাতে গেল।
পা দিয়ে আটকালেন ডিকসন। এক মিনিট। বলেই বাক্সের ডালা ফাঁক করে ভেতর থেকে বের করে আনলেন একটা স্লইম ম্যানের কপি। এটা আমার। ওখানে গেল কি করে? ছেলেটার মুখের কাছে বইটা নাড়তে নাড়তে বললেন, এবার ছেড়ে দিলাম, যাও। আর যদি এদিকে দেখি ঠ্যাঙ ভেঙে দেব।
বিরাট বোঝাটা তুলে নিয়ে দ্রুত সরে পড়ল ছেলেটা, বোঝার তুলনায় খুব তাড়াতাড়ি গেল।
সেদিকে তাকিয়ে আনমনে বিড়বিড় করে বললেন ডিকসন, ভাল করে দেখা উচিত ছিল। আমার আরও বই নিয়ে গেছে কি-না কে জানে! এই জন্যেই, বুঝলে, তিন গোয়েন্দার দিকে তাকিয়ে বললেন, দামি জিসিনগুলো পেছনে সরিয়ে রাখি, হাতের কাছ থেকে দূরে। চোরের অভাব নেই। তিক্ত হাসি হাসলেন। একটা চোরকেও কিছু না বলে ছেড়ে দিলাম। অথচ আমাকেই চোর ভাবে ডুফার, গলাকাটা ডাকাত ভাবে!
এডগার ডুফারের নাম শুনে ঝট করে একটা কথা মনে পড়ে গেল কিশোরের। লোকটার ওপর থেকে সন্দেহ দূর হয়ে গেল তার। টেবিলটা পড়ে যাওয়া থেকেই বুঝেছে। লাল আলখেল্লার আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে আসতে পারলেও বিশাল বপু নিয়ে ওই টেবিল ডিঙিয়ে যেতে পারবে না সে কোনমতেই। তাহলে অবশ্যই ধসে পড়ত টেবিলটা। তাহলে কে কাজটা করল? মিসেস জরডান?
অ্যাই যে, তোমরা এখানে।
ফিরে তাকাল কিশোর। হাতে একগাদা কমিক বুক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মিরিনা। বলল, এখানেই পাব জানতাম। ভাবলাম, ফেরত দিয়েই যাই।
থ্যাংকস। মিরিনার হাত থেকে কমিকগুলো নিল কিশোর। সাক্ষাৎকার কেমন হলো?
ভাল। আম্মা বলল, এতদিনে নাকি আমি কিছু শিখতে পেরেছি। সাংবাদিকদেরকে অপেক্ষা করিয়ে রেখে ভাল করেছি। এরকমই নাকি করতে হয়, তাতে দাম বাড়ে। আমার দেরি হওয়ার আসল কারণটা যদি জানত… ডিকসনের ওপর চোখ পড়তে থেমে গেল সে।
কমিক গোছাচ্ছেন ডিকসন। হাত কাঁপছে। তাকাতে পারছেন না মিরিনার দিকে। হঠাৎ কেন কথা থামিয়ে দিয়েছে বুঝতে অসুবিধে হয়নি। বললেন, মিরিনা, আমি দুঃখিত, সত্যিই দুঃখিত! বড় অন্যায় করে ফেলেছি!
নরম হয়ে গেল মিরিনা। না না, আমি কিছু মনে করছি না! ভুল হয়েই যায় মানুষের। কিশোরের দিকে তাকাল সে। কিশোর, তোমাকে ধন্যবাদ দেয়া হয়নি তখন। সাংঘাতিক ছেলে তুমি, বাব্বাহ! বলে ওর হাত চাপড়ে দিল সে।
লাল হয়ে গেল কিশোর। এরকম খোলাখুলি প্রশংসায় লজ্জা পায় সে তার ওপর করেছে একটা মেয়ে। ঢোক গিলে বলল, ও কিছু না…আমি…আমরা… চুপ হয়ে গেল সে। দেখল, ওর দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে রবিন আর মুসা। মেয়েদের ব্যাপারে কিশোরের অস্বস্তির কথাটা জানা আছে ওদের।
ওকে আরও অস্বস্তিতে ফেলে দিল মিরিনা। বলল, ফাইট করতে পারো বটে তুমি! কিশোরের হাত ধরে বলল, এসো না, আজ একসঙ্গেই লাঞ্চ খাই? কিশোরের নীরবতাকে সম্মতি ধরে নিয়ে বলল সে, তাহলে ওই কথাই রইল। হোটেলের সাইড গেটের কাছে বাগানে তোমার জন্যে অপেক্ষা করব আমি। বিশ মিনিটের মধ্যে।
চলে গেল মিরিনা।
দুই বন্ধুর দিকে তাকিয়ে মাথা চুলকে কিশোর বলল, কি করা যায়, বলো তো? ও আমাকে একা যেতে বলল!
কি আবার, রবিন বলল। যাবে। কথা বলার এটাই তো সুযোগ। দেখো না, কিছু বের করতে পারো কি-না।
ঠিক, মুসাও একমত। লাল আলখেল্লার সঙ্গে কোন যোগাযোগ থেকে থাকলে…
বেশ,… বিড়বিড় করে আরও কিছু বলল কিশোর, বুঝতে পারল না অন্য দুজন। রওনা হলো নিজেদের ঘরের দিকে, কমিকগুলো রেখে আসার জন্য।
পোশাক বদলে এল মিরিনা। পরনে শর্ট, গায়ে টি-শার্ট, মাথায় উইগ নেই, বেরিয়ে আছে খাট বাদামি চুল। স্বাভাবিক লাগছে তাকে এই পোশাকে, আরও বেশি সুন্দর।
বাহ্, দারুণ লাগছে তোমাকে, প্রশংসা করল কিশোর। এটাই কি তোমার আসল রূপ?
হাসল মিরিনা। কেন, আরও কিছু আছে ভাবছ নাকি? কিশোরের হাতের ভাঁজে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে সাইডওয়াকের দিকে টেনে নিয়ে চলল সে। পোশাক তো না, পাগলামি! আহ, বাচলাম!
পাশাপাশি হাঁটছে দুজনে।
আবার বলল মিরিনা, কাছেই একটা রেস্টুরেন্ট আছে। বার্গার আর সালাদ খুব ভাল করে। ওখানে গিয়ে আরামে বসতে পারব আমরা, স্টেলারা স্টারগার্লের ব্যাপারে কেউ মাথা ঘামাবে না।
প্রচুর আলোবাতাস রয়েছে রেস্টুরেন্টটার ভেতরে। চারদিকে প্রচুর কাচ, ভেতরে অসংখ্য টবে গাছ। ভিড় কম। খাবারের অর্ডার দিল মিরিনা।
খাওয়ার ফাঁকে একসময় তিন গোয়েন্দার একটা কার্ড বের করে পড়ল। মুখ তুলে জিজ্ঞেস করল, তোমরা সত্যিই গোয়েন্দা? অপরাধী খুঁজে বেড়াও?
কিশোর বলল, বহু বছর ধরে একাজ করছি।
আর এর প্রতিষ্ঠাতা হলে গিয়ে তুমি। অন্য দুজন তোমার সহকারী।
মাথা ঝাঁকাল কিশোর। কাঁটা চামচের মাথায় গেঁথে তোলা মাংসের টুকরোটা খসে পড়ে গেল পিরিচে। আবার গেঁথে নিয়ে মুখে পুরে চিবাতে লাগল।
দারুণ একটা টিম তোমাদের, মিরিনা বলল। অনেক খোঁজখবর নিয়েছি তোমাদের ব্যাপারে। তুমি হলে দলটার মাথা। তোমার নিগ্রো বন্ধুটির গায়ে জোর বেশি, তাই তাকে দেয়া হয় সাধারণত বিপজ্জনক কাজের ভার। আর আমেরিকান বন্ধুটি বইয়ের পোকা, তাই বই ঘেঁটে তথ্য জোগাড় আর গবেষণার ভার পড়ে তার ওপর। ঠিক বলেছি না?
মাথা ঝাকাল কিশোর। হ্যাঁ, খোঁজখবর সত্যিই নিয়েছ।
তারপর কিছুক্ষণ প্রশ্ন করে গোয়েন্দাগিরির ব্যাপারে নানা কথা জেনে নিল মিরিনা। অবশেষে কাজের কথায় এল কিশোর, ওই অদ্ভুত পোশাক কেন পরো তুমি?
কঠিন প্রশ্ন করলে। চিবিয়ে মুখের খাবারটুকু গিলে নিল মিরিনা। এক ঢোক পানি খেলো। তারপর বলল, কমিক খুব পছন্দ আমার। কিন্তু আম্মা একদম দেখতে পারে না। হাতে দেখলেই বকাবকি করে। শেষে একদিন চোখ পড়ল স্টেলারা স্টারগার্লের ওপর। আমাকে দিয়ে মডেলিং করানর ভাবনাটা তখনই এল মাথায়।
তোমার কেমন লাগে মডেল হতে?
ভাল না। আমার ইচ্ছে কমিক আর্টিস্ট হওয়া।
হাসল কিশোর। স্নাইম ম্যানের ছবি আঁকবে?
আঁকলে ক্ষতি কি? তবে স্টেলারা স্টারগার্লকেই আমার বেশি পছন্দ।
আর কোন প্রশ্ন খুঁজে পেল না কিশোর। খাওয়া শেষ করে উঠল।
হোটেলের পাশের গেট দিয়ে আবার বাগানে ঢুকল দুজনে।
কিশোর বলল, ভাল খাবার খাইয়েছ। ধন্যবাদ।
আবার দেখা হবে, হাত বাড়িয়ে দিল মিরিনা। কাল পর্যন্ত থাকছ তো?
মিরিনার হাতটার দিকে তাকিয়ে রয়েছে কিশোর। কি যেন ভাবছে। তারপর ধীরে ধীরে হাত বাড়াল। বলল, কতদিন থাকব বলতে পারছি না। তবে এ কেসের সমাধান না হওয়াতক আছি, এটা বলতে পারি। চোখ আটকে গেল মিরিনার হাতের দিকে। আরি!
কী? হাতটা টেনে নেয়ার চেষ্টা করল মিরিনা। কিন্তু কিশোর ছাড়ল না। তাকিয়ে রয়েছে হাতের উল্টো পিঠের সিলটার দিকে।
কিশোর, কি হলো?
বিড়বিড় করছে কিশোর, আরও আগেই বোঝা উচিত ছিল! অনেক আগে!
ডাকাতির কথা বলছ?
আরেক হাতে মিরিনার হাতটা চাপড়ে দিয়ে কিশোর বলল, বলছি, ক্রিমসন ফ্যান্টমের কথা। শোক বম্বগুলো ফেলার সময় লোকটার দুটো হাতই আমি দেখেছি।
তাতে কি?
তাতে? অনেক কিছু। প্রথমেই বলা যায়, লোকটার কোন হাতেই সিল ছিল না।