১৫. কিশোরের হাত ধরে ফেলল মিরিনা

0 Comments

দাঁড়াও, কিশোরের হাত ধরে ফেলল মিরিনা। আসলে কোথায় যাচ্ছি আমরা?

যেখান থেকে সমস্ত গোলমালের উৎপত্তি, জবাব দিল কিশোর। সুমাতো কমিকসের খানিক দূরে এসে দাঁড়িয়ে গেল সে।

ভিড়ের জন্যে কাছে যাওয়ার উপায় নেই। গায়ে গায়ে লেগে যেন মানুষের প্রাচীর তৈরি হয়ে গেছে।

ঢোকা যাবে? ভিড়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রবিন।

যাবে, এদিকে তাকিয়ে বলে উঠল একটা ছেলে, লাল হয়ে গেছে চোখ, ঠেলাঠেলি করার পরিশ্রমেই বোধহয়। কাল ছিল তিরিশ, আজ নিজে কিনেছি, আজ হয়ে গেছে দশ। এখনি সব বিক্রি শেষ হয়ে যাবে।

তারপরেও দাম অনেক বেশি, নিচু গলায় বলল কিশোর। টেপের কথা বলছে ছেলেটা। অন্যান্য জিনিসের দামও কমিয়ে দেয়া হয়েছে জানা গেল। কেন? অবাক লাগছে কিশোরের। হঠাৎ করে কেন এভাবে দাম কমাল?

কারণটা জানার জন্যে এগিয়ে গেল সে। ভিড় ঠেলে ঢোকার চেষ্টা করল। কয়েক মিনিট একটানা মানুষের শরীরের চাপ আর কনুইয়ের গুতো খাবার পর বেরিয়ে আসতে পারল প্রাচীরের অন্যপাশে, কাউন্টারের কাছাকাছি। কমিক আর ভিডিও টেপ বিক্রি করে কুল পাচ্ছে না সেলসম্যানেরা। দাম কমে যাওয়ায় যেন পাগল হয়ে উঠেছে ক্রেতারা। কিনেই চলেছে। সোনালি, শজারুর কাঁটার মত চুলওয়ালা লোকটা জিজ্ঞেস করল কিশোরকে, কি দেব?

ইয়ে…লোরা স্টারগার্ল! প্রথম যে নামটা মনে এল বলে দিল কিশোর।

ভাল জিনিস চেয়েছ। অনেকগুলো আছে আমাদের কাছে, স্পেশাল, এক থেকে পাঁচ পর্যন্ত। পাঁচ ডলার করে সবগুলোর দাম হয় পঁচিশ, কিশোরের দিকে তাকিয়ে হাসল লোকটা। তবে তোমার জন্যে পনেরো। দশই বাদ, যাও।

টাকা বের করে দেয়া ছাড়া উপায় নেই। দেয়ার সময় লোকটার হাতের দিকে তাকাল। না, এই লোক ক্রিমসন ফ্যান্টম নয়। আঙুলগুলো মোটা মোটা, খাটো, নখের মাথা কামড়ে কেটে ফেলেছে। হাতের উল্টো পিঠে স্পষ্ট ছাপ দেয়া।

টাকাটা নিয়ে আরেক জনের হাতে দিল সোনালি চুল, দাম রেখে বাকিটা ফেরত দেয়ার জন্যে। টাকা গুনছে দ্বিতীয় লোকটা, কিশোর তাকিয়ে রয়েছে তার হাতের দিকে। নাহ, ওর হাতেও ছাপ রয়েছে।

এই যে, নাও, থ্যাংকস, টাকাটা ফিরিয়ে দিতে দিতে বলল দ্বিতীয় লোকটা। তারপর তাকাল সহকারীদের দিকে। একজনকে ডেকে বলল, ডেড, স্পেশাল কিছু নিয়ে এসো তো।

আরেক প্যাকেট স্টেলারা স্টারগার্ল কমিক বের করল ডেভ। এগুলো? দামটা দেখতে পেল কিশোর। দশ ডলার লেখা রয়েছে।

না, গাধা, এগুলো কি স্পেশাল হলো নাকি? না থাকলে দোকান থেকে নিয়ে এসোগে। আজকেই দরকার।

আবার ভিড় ঠেলে ফিরে চলল কিশোর। ঢুকতে যতটা কষ্ট হয়েছিল, বেরোতে তার চেয়ে কিছুটা কম হলো। কি কিনে এনেছে সে, দেখেই হাসতে লাগল মিরিনা।

গম্ভীর হয়ে কিশোর বলল, পরে তোমার অটোগ্রাফ নিয়ে নেব এগুলোতে, যখন তুমি বিখ্যাত হয়ে যাবে স্টারগার্ল হিসেবে। এখন অন্য জায়গায় যেতে হবে।

অন্য জায়গায়?

এখানে সব ফালতু জিনিস বিক্রি করছে সুমাতোরা। হাতের প্যাকেটটা দেখাল কিশোর, এসব জঞ্জাল। তবে দোকানে স্পেশাল কিছু রয়েছে। ভাবছি, ওগুলো এতই স্পেশাল কিনা, যা চুরি করে জোগাড়ের দরকার পড়ে?

দেখতে চাও তো? চলো, ভ্যান আছে আমার, ম্যাড ডিকসন বললেন। কিছুক্ষণের জন্যে সেলসম্যানদের ওপর দোকানের ভার দিয়ে যেতে পারব।

আমিও যাব, মিরিনা বলল। সোনালি পোশাকের দিকে তাকাল। তবে এই কাপড়ে…

নাও, নিজের গায়ের জ্যাকেটটা খুলে দিল হুফার। এটা গায়ে চড়াও। অনেকখানিই ঢাকতে পারবে।

আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যারেজে নেমে এল ওরা। হুফার, মিরিনা আর ডিকসন উঠলেন সবুজ ভ্যানে। তিন গোয়েন্দা উঠল মুসার ইমপালায়।

তা সত্যিই জানো তো দোকানটা কোথায়? গ্যারেজ থেকে বেরিয়ে এলে জিজ্ঞেস করল কিশোর।

জানি, মুসা বলল। ডিকসন কি বলল শুনলে না? ওয়েস্টার্নের কাছে, হলিউডে। বলল তো দেখতে পাবই। আমিও একবার দেখেছিলাম মনে পড়ে। বের করে ফেলতে পারব।

ঠিকই পারল সে। একবারেই। চার তলা একটা পুরানো বাড়ির গ্রাউন্ড ফ্লোরে রয়েছে সুমাতো কমিকস। সামনের দিকটায় উজ্জ্বল রঙে দোকানটার বিজ্ঞাপন লেখা হয়েছে। আর এঁকেছে প্রচুর ছবি। হলুদ পটভূমিতে ফুটে আছে কমিকের নানা রকম হিরোরা। জাপানী হিরোদের সঙ্গে আমেরিকান সুপারম্যানের লড়াইটা চমৎকার।

হেসে ফেলল রবিন। সুমাতো কমিকস যখন, এর চেয়ে ভাল আর কি দেখাতে পারত?

দুটো গাড়িই পার্ক করে নেমে এল সবাই।

ডিকসন বললেন, কমিক জোগাড় যখন শুরু করেছিলাম, তখন প্রায় সারাটা দিনই এখানে কাটাতাম। সব চেয়ে কম দামে বিক্রি করত এরা।

আর সব চেয়ে কম ভাড়ায় দোকান পাওয়া যেত তখন, পাশের মলিন ঘরগুলোর দিকে তাকাল হুফার।

ওই সময়, কথার পিঠে আবার বললেন ডিকসন, বাড়িটার মাটির তলার দোকানগুলোতে সেকেন্ডহ্যান্ড পেপারব্যাক বই বিক্রি হত। এখন আর দোকান নেই, গুদাম করে ফেলা হয়েছে। আমরা যেটার খোঁজে এসেছি, সেটা ওখানে পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সিড়িটা চিনি, কিন্তু নামতে গেলে ধরা পড়ে যেতে পারি।

হাসল মিরিনা। হুফারের জ্যাকেটটা খুলতে শুরু করল। আমার মনে হয়, ওদের নজর আরেক দিকে সরানোর ব্যবস্থা আমি করতে পারব।

কিভাবে কি করবে দ্রুত একটা ছক ঠিক করে ফেলল কিশোর। কাজ শুরু হলো সেই মত। পরের পাঁচটা মিনিট হুফার, ডিকসন আর কিশোর ঘুরে বেড়াতে লাগল, সাধারণ খরিদ্দারের মত। পাঁচ মিনিট পর পিছু নিল মিরিনা। বাইরে রয়ে গেল মূসা আর রবিন, কোন গন্ডগোল দেখা দিলে সেটা সামলানোর চেষ্টা করবে।

কনভেনশন হলের তুলনায় অর্ধেক বেচাকেনাও এখানে আশা করেনি কিশোর। তবে যা দেখল, সেটাও আশা করেনি। র্যাকে কমিক ঘাটাঘাটি করছে চারজন কাস্টোমার। উদাস, শূন্য দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে দুজন সেলসম্যান।

দেয়াল ঘেঁষে প্রচুর বাক্স ছিল, দাগ দেখেই অনুমান করতে পারল কিশোর। মেঝেতে ধুলোর মাঝে মাঝে চারকোণ দাগ, ওসব জায়গায়ও বাক্স ছিল। র্যাকেও বই তেমন নেই। ব্যবসা খারাপ হয়ে এলে কিংবা দোকান বিক্রি করে দেয়ার সময় যে অবস্থা হয় সে রকম লাগছে। তবে বেশি তাড়াহুড়া যেন করেছে মালিক।

ঘুরে তাকিয়ে ডিকসনের ওপর চোখ পড়ল কিশোরের। দোকানের পেছনের অংশে একটা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছেন। দোকান খালি হয়ে যাওয়ায় সুবিধেই হয়েছে ওদের। অনেক বাক্স সরিয়ে নিয়ে গিয়ে খোলা হয়েছে, বই বের করে নিয়ে বাক্সগুলো ওখানেই ফেলে রেখেছে। র্যাকের কমিক দেখার ভান করতে করতে ওখানে চলে এল কিশোর। হুফারও এল।

খুলে গেল সামনের দরজা, ভেতরে ঢুকল মিরিনা। পোশাকের মতই মুখেও হাসি ঝলমল করছে। কনভেনশন হলে যেভাবে আকৃষ্ট করেছে মানুষকে, এখানেও তার ব্যতিক্রম হলো না। সব কটা চোখ ঘুরে গেল তার দিকে।

এই-ই সুযোগ। মাটির নিচের ঘরে ঢোকার দরজাটা আস্তে করে খুলে ফেললেন ডিকসন। ঢুকে পড়ল তিনজনে। ধুলো পড়া চল্লিশ ওয়াটের একটা বাল্ব জ্বলছে সিঁড়িতে, আলো-আঁধারি তৈরি করেছে।

নিচে নেমে সুইচবোর্ডটা খুঁজল কিশোর। পেল না। সিঁড়ির আলো আবছা ভাবে আসছে এখানে, তাতে ভাল করে জিনিসপত্র চোখে পড়ে না। তবে দেখার তেমন কিছু আছে বলেও মনে হলো না। কয়েকটা ছোট ছোট বাক্স আর খুলে রাখা কোন মেশিনের কিছু যন্ত্রপাতি বাদে।

যন্ত্রাংশগুলোর দিকে তাকিয়ে রয়েছে কিশোর। এরকম জিনিস দেখেছে কোথাও আগেও। কোথায়? ধীরে ধীরে স্মৃতিতে স্পষ্ট হলো। দেখেছে ওদেরই স্যালভিজ ইয়ার্ডে। বন্ধ হয়ে যাওয়া একটা ছাপাখানা থেকে কিনে এনেছিলেন রাশেদ পাশা। কি মেশিনের জানেন? ফিসফিস করে বলল সে, পুরানো অফসেট প্রিন্টিং মেশিন। কিন্তু কি ছেপেছে ওরা এই মেশিন দিয়ে?

সামনে পা বাড়াতেই পায়ে লাগল দলামোচড়া করে ফেলে রাখা কাগজ। লাথি লেগে কাগজের বলটা ছুটে গেল হুফারের দিকে। তুলে নিল সে। টেনেটুনে সমান করল কাগজটা। দেখে বলল, এই ম্যাড, জানেন এটা কি?

সাদা-কালোয় ছাপা হয়েছে কাগজটাতে।

ডিকসনও দেখে চিনতে পারলেন। জানব না কেন? আগে খবরের কাগজে সাদা-কালোয় ছাপা হত কমিক। বইও ছাপত। এই পাতাটা নিশ্চয় পঞ্চাশ বছরের পুরানো।

আমার মনে হচ্ছে নতুন, পাতাটা দেখিয়ে বলল হুফার। পুরানো হলে হলুদ হয়ে যেত, কিনারগুলো হত ফাটা ফাটা। খোলার সময় মুড়মুড় করে ভেঙে যেত।

এখন বুঝতে পারছি, কিশোর বলল, স্পেশাল জিনিস বলতে কি বোঝাতে চেয়েছে।

ভাল কথা, বলে উঠল একটা কণ্ঠ। এখন বলো তো, তোমাদের নিয়ে কি করা যায়?

সিড়ির দিকে তাকাল ওরা। আবছা আলোয় তিনটে মূর্তিকে দেখা গেল। নেমে আসতে লাগল একজন। তাকে চিনতে পারল কিশোর। কনভেনশন ফোরের সেই বিশালদেহী দারোয়ান।

মনে করেছিলাম, লোকটা বলল, তোমার কালো বন্ধুটা উড়াল দিয়ে পুলে নামার পর থেকেই সাবধান হয়ে যাবে। হলে না। ঘুরঘুর করতেই থাকলে, যাকে পেলে তাকেই প্রশ্ন করলে, আরও সহকারী জোগাড় করলে, শেষমেষ এখানেও এসে হাজির হলে। আশা করি, চেঁচামেচি করার কথা ভাবছ না। লাভ হবে না। দোকানটা বন্ধ করে দিচ্ছি আমরা। দেয়ালগুলোও অনেক পুরু। বাইরে থেকে শোনা যাবে না।

নরিস, বলল একজন সেলসম্যান, কণ্ঠে অস্বস্তি, কি করব এদের?

হ্যাঁ, লোকটার সঙ্গে গলা মেলাল কিশোর, কি করা হবে আমাদের? নরিস, জানলেন কি করে আমরা এখানে আসছি?

ওই বোরাম ছাগলটা লাফাতে লাফাতে এল বসের কাছে, তোমরা নাকি নানা রকম কথা জিজ্ঞেস করেছ, এটা বলার জন্যে। সে আন্দাজ করে ফেলেছিল, তোমরা এখানে আসছ। হাসল নরিস। তারপর আর কি? আমাকে এখানে পাঠিয়ে দিল তোমাদের তিন গাধাকে ধরার জন্যে।

অন্ধকারে ভালমত আমাদের দেখতে পাচ্ছে না, ভাবল কিশোর। ডিকসন আর হুফারকে মুসা আর রবিন বলে ভুল করছে ব্যাটা। ও, লুই মরগানের হয়ে অনেককেই ধরতে যান তাহলে আপনি, বলতে বলতে তার দিকে এগোল সে। আলোয় বেরিয়ে এল। পেছনে হাত নিয়ে গিয়ে নেড়ে ইশারা করল ডিকসন আর হুফারকে, যাতে না এগোয়।

এখন আমার মনে পড়ছে, বলছে কিশোর, মুসা যখন ব্যালকনি থেকে পড়ে গিয়েছিল, তখন আপনি ছিলেন না গেটে পাহারায়। আপনার জায়গায় বসেছিল যে মেয়েটা হাতে সিল দেয় সে। ছুটি ছিল নাকি তখন আপনার? নাকি ছুটি দেয়া হয়েছিল আইজাক হুফারের ঘরে ঢোকার জন্যে?

ভয় পাচ্ছে কিশোর, তার কথা শুনে লোকটা মেজাজ না খারাপ করে বসে। সময় চাইছে সে। দেরি করিয়ে দিতে চাইছে। যাতে মুসা আর রবিন চলে আসার সময় পায়। ওপরে মিরিনারই বা কি হলো?

ডিনারের সময়ও আপনি ছিলেন ওখানে, কথা থামাল না কিশোর। বোরাম আর হুফার যখন হাতাহাতি শুরু করলেন, তাদের ছাড়াতে গেলেন। কেন? পরে সুযোগ করে গিয়ে হুফারকে শেষ করে দেয়ার জন্যে? নাকি বোরাম যে কাজটা করতে চেয়েছিলেন, সেটা করার জন্যে? বেচারা হুফারকে দুরমুজ করার জন্যে?

হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নাড়তে লাগল নরিস। এতক্ষণে বুঝলাম, তোমাদের নিয়ে কেন এত দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন বস। মাথাটা বড় বেশি পরিষ্কার তোমাদের। অনেক কিছুই বুঝে ফেল।

তবে সব বুঝতে পারি নি। আমি ভেবেছিলাম, আপনিই বুঝি ক্রিমসন ফ্যান্টম সেজেছেন। পরে বুঝলাম, আপনি না। আপনার হাতের আঙুল বেশি মোটা, প্রায় চাঁপাকলার মত। সময় ফুরিয়ে আসছে, বুঝতে পারছে কিশোর। নরিস আর তার দুই সহকারী আর বেশিক্ষণ থাকবে না এখানে, কাজ সেরে সরে, পড়তে চাইবে।

চাঁপাকলা, না? রাগ প্রকাশ পেল নরিসের কণ্ঠে। চাঁপাকলার গাট্টা খাওনি তো মাথায়, খেলে বুঝতে পারবে!

বাধা দেয়ার জন্যে তৈরি হলো কিশোর। বেশি আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছেন না? আমি একা নই। আপনারাও তিনজন, আমরাও তিনজন।

আবার হাসল নরিস। বেরিয়ে পড়ল ভাঙা দাঁত, স্নান আলোতেও দেখতে পেল কিশোর। তাতে কোন অসুবিধে নেই। তোমাদের তিনজনকে একাই কাবু করে ফেলতে পারি…

কথা শেষ করল না সে। পেছন থেকে হাতটা সামনে নিয়ে এল। হাতে একটা বেসবল ব্যাট। ব্যাটের মোটা অংশটায় চাপড় দিল বাঁ হাতে।

ভয় পাচ্ছে তার দুই সহকারী। ওরাও হাত সামনে আনল। দুজনের হাতেই একটা করে ব্যাট।

নরিসের ইঙ্গিতে এগিয়ে আসতে লাগল তারাও।

Categories: