কানা বেড়াল – তিন গোয়েন্দা – রকিব হাসান
প্রথম প্রকাশঃ এপ্রিল ১৯৯০
কাজে ব্যস্ত কিশোর পাশা আর মুসা আমান, এই সময় বড় বড় দুটো কাঠের গামলা নিয়ে তিন গোয়েন্দার ব্যক্তিগত ওয়ার্কশপে ঢুকলেন রাশেদ পাশা। ছেলেদের সামনে এনে মাটিতে রাখলেন ওগুলো। কোমরে হাত দিয়ে বললেন, কাজ নিয়ে এলাম। রঙ করতে হবে। লাল, নীল আর সাদা ডোরা।
ওই গামলায় রঙ? অবাক হলো মুসা।
এখন? হাতের স্ক্রু-ড্রাইভার নেড়ে বললো কিশোর।
তিন গোয়েন্দার জন্য একটা কি-জানি-যন্ত্র বানাচ্ছে কিশোর, ওয়ার্কবেঞ্চে রাখা ইলেকট্রনিক যন্ত্রগুলো দেখিয়ে বললো মুসা।
নতুন আবিষ্কার? আগ্রহী হলেন রাশেদ পাশা, ক্ষণিকের জন্যে ভুলে গেলেন গামলার কথা।
কি জানি? হাত নাড়লো মুসা। আমাকে কিছু বলে নাকি? আমি তো শুধু ওর ফাইফরমাশ খাটছি।
পরে করলে হয় না, চাচা? কিশোর জিজ্ঞেস করলো।
না, আজ রাতেই দরকার। ঠিক আছে, তোমরা না পারলে বোরিস আর রোভারকে গিয়ে বলি, মিটিমিটি হাসি রাশেদ পাশার চোখের তারায়। কিন্তু তাহলে গামলাগুলো ডেলিভারিও দেবে ওরাই।
সতর্ক হয়ে উঠলো কিশোর। মানে?
রাশেদচাচার সারা মুখে হাসি ছড়ালো। ধরো, ওই গামলাগুলোকে সিংহের আসন বানানো হলো। কেমন হবে?
হ্যাঁ, মাথা ঝাঁকালো মুসা, সিংহেরা শুধু এই তালেই আছে। কখন লাল-নীল চেয়ারে বসবে।
কিশোর হাসছে না। চোখ উজ্জ্বল। ঠিক বলেছো, চাচা, খুব ভালো হয়। উপুড় করে বসালে চমৎকার সীট হবে সিংহের…তবে অবশ্যই সার্কাসে!
খাইছে! সার্কাস! হাসি মুছে গেল মুসার মুখ থেকে। গামলা-ডেলিভারি দিতে গেলে সার্কাসের ভেতরটা ঘুরিয়ে দেখাবে আমাদেরকে?
ঠিক সার্কাস নয়, হাসিমুখে খবর জানালেন রাশেদ পাশা। কারনিভল। আমাদের দেশের মেলা আরকি। নানা রকমের খেলা, আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা আছে। কাল রাতে এসে আস্তানা গেড়েছে রকি বীচে। সিংহ বসার বেদীগুলো নাকি পুড়ে গেছে। মুশকিলে পড়েছে বেচারা লায়ন ট্রেনার। কিসে বসিয়ে সিংহের খেলা দেখায়? অনেক খুঁজেও ওরকম বেদী কোনোখানে পেলো না, শেষে আমাদের ফোন করলো, পুরনো বেদী-টেদী যদি থাকে। নেই, বলেছি। শেষে আমিই পরামর্শ দিয়েছি, গামলা দিয়ে আসন বানানো সম্ভব, কথা থামিয়ে বিশাল গোঁফের কোণ ধরে টানলেন তিনি। ওগুলো পেলে খুব উপকার হবে ওদের। হয়তো ঘুরিয়ে দেখাতেও পারে।
কিশোর! প্রায় চেঁচিয়ে উঠলো মুসা। তাহলে আর দেরি করছি কেন আমরা? রঙ আনো। আমি স্প্রে গান রেডি করছি।
আধ ঘন্টার মধ্যেই রঙ হয়ে গেল। শুকাতে সময় লাগবে। এই সুযোগে সাইকেল নিয়ে রবিনকে খবর দিতে চললো মুসা, রকি বীচ পাবলিক লাইব্রেরিতে, যেখানে পার্টটাইম চাকরি করে রবিন মিলফোর্ড। শুনে, রবিনও উত্তেজিত। সময় আর কাটে না, কখন অফিস ছুটি হবে। ছুটির পর আর এক মুহূর্ত দেরি করলো না। সাইকেল নিয়ে ছুটলো স্যালভিজ ইয়ার্ডে।
তাড়াতাড়ি মুখে কিছু গুঁজে রাতের খাওয়া শেষ করলো তিন গোয়েন্দা। সাড়ে সাতটা নাগাদ বেরিয়ে পড়লো। গামলা দুটো বেঁধেছে কিশোর আর মুসার সাইকেলের ক্যারিয়ারে।
দূর থেকেই চোখে পড়লো কারনিভলের আলো। একটা পরিত্যক্ত পার্কের পাশে অসংখ্য তাঁবু আর কাঠের ছোট ছোট খুপড়ি। সাময়িক তারের বেড়া, যাওয়ার সময় আবার তুলে নিয়ে চলে যাবে। জোরে জোরে বাজনা বাজছে মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্যে। ঘুরছে শূন্য নাগরদোলা। একটা পথের মাথায় দাঁড়িয়ে আছে দুজন ভাঁড়।
লায়ন ট্রেনারের তাঁবু খুঁজে বের করতে অসুবিধে হলো না। লাল কাপড়ে সাদা অক্ষরে লিখে বিজ্ঞাপন টানানো হয়েছেঃ কিং–দুনিয়ার সবচেয়ে বুদ্ধিমান সিংহ। তাঁবুর সামনে দাঁড়িয়ে লম্বা একজন লোক, পরনে গাঢ় নীল পোশাক, পায়ে চকচকে বুট; ওদের দেখে এগিয়ে এলো। গোঁফে তা দিয়ে বললো, এসে গেছো! দেখি? ভালো হয়েছে তো?
পাশা স্যালভিজ ইয়ার্ড কখনও বাজে মাল সাপ্লাই দেয় না, কিশোর বললো।
বাহ, হেসে উঠলো লোকটা। একেবারে বারকারদের মতো কথা বলছে, ইয়াং ম্যান।
বারকার কি, স্যার? জিজ্ঞেস করলো মুসা।
আন্দাজ করো তো, মিটিমিটি হাসছে লোকটা।
বাজি রেখে বলতে পারি, আমাদের কিশোর জানে, ঘোষণা করলো রবিন।
তাকে নিরাশ করলো না গোয়েন্দাপ্রধান। বারকার হলো, যে সার্কাস কিং কারনিভলের বাইরে দাঁড়িয়ে দর্শকদের জানায়, ভেতরে কি মজার মজার ব্যাপার। হচ্ছে। এটা এক ধরনের বিজ্ঞাপন, পুরনো।
জানো তাহলে, লোকটা বললো। আরও নাম আছে ওদের। কেউ বলে স্পাইলার, কেউ পিচম্যান। যতোই বোঝাও বারকারদের, লাভ হবে না, বাড়িয়ে বলবেই। আসলে ওটাই ওদের কাজ। তবে খুব ভালো আর অভিজ্ঞ বারকারের। মিথ্যে বলার প্রয়োজন পড়ে না, সত্যি কথা বলেই দর্শক আকৃষ্ট করতে পারে। এই আমাদের বারকারের কথাই ধরো না, কিঙের কথা এক বর্ণ বাড়িয়ে বলবে না সে। অথচ যা বলবে তাতেই লোকে দেখার জন্যে পাগল হয়ে উঠবে। সিংহকে ট্র্যাপিজের খেল দেখাতে দেখেছো কখনও?
খাইছে! চোখ বড় বড় হয়ে গেল মুসার। সিংহ আবার ট্র্যাপিজে উঠতে পারে নাকি?
আমাদেরটা পারে। বিশ্বাস না হলে নিজের চোখেই দেখবে। আর ঘন্টাখানেকের মধ্যেই ফার্স্ট শো শুরু হবে। এসো, তোমরা আমার মেহমান। টিকেট লাগবে না।…ও, আমি মারকাস। মারকাস দ্য হারকিউলিস।
বাইরে চেঁচিয়ে চলেছে বারকার। ইতিমধ্যেই দর্শক জমেছে কয়েকজন।
নাগরদোলায় চড়লো তিন গোয়েন্দা। কয়েক চক্কর ঘুরে নেমে এলো। ব্রাস রিঙের কাছে এসে ছোঁয়ার চেষ্টা করলো। রবিন আর কিশোর ব্যর্থ হলো, মুসা। পারলো একবার। ভাড়ের ভাড়ামি দেখলো কিছুক্ষণ, তারপর চললো গেম বুদের। দিকে, যেখানে ডার্ট ছেঁড়া, রিং নিক্ষেপ আর রাইফেল শুটিঙের প্রতিযোগিতা হয়। ই আমার মনে হয় ফাঁকিবাজি আছে, খানিকক্ষণ দেখে বললো রবিন। দেখছো
কি সহজেই জায়গামতো লাগিয়ে দিচ্ছে।
না, মাথা নাড়লো কিশোর। মারতে মারতে ওস্তাদ হয়ে গেছে ওরা। হিসেব করে, মারে…
তার কথা শেষ হলো না। চিৎকার শোনা গেল, ফাঁকিবাজ! দাও, দাও ওটা! আমি পুরস্কার পেয়েছি!
চেঁচাচ্ছে লম্বা এক প্রৌঢ়, মাথায় ব্লাউচ হ্যাট। পুরু গোঁফ। চোখে কালো কাঁচের চশমা। অন্ধকার হয়ে আসছে, এ-সময় সাধারণত ওরকম চশমা পরে না। লোকে। শুটিং গ্যালারির দায়িত্বে এক সোনালি চুল কিশোর, তাকেই গালিগালাজ করছে লোকটা। ছেলেটার হাতে একটা স্টাফ করা জানোয়ার। হঠাৎ ওটা কেড়ে নিয়ে তিন গোয়েন্দার দিকে দৌড়ে এলো প্রৌঢ়।
চেঁচিয়ে উঠলো সোনালি চুল ছেলেটা, ধরো, ধরো ওকে! চোর, চোর!
ছেলেটার চিৎকারে পেছনে তাকাতে গিয়ে সোজা এসে কিশোরের গায়ের ওপর পড়লো লোকটা। তাল সামলাতে না পেরে তাকে নিয়ে পড়লো মাটিতে।
আঁউউ করে উঠলো কিশোর।
ছুটাছুটি শুরু করলো কয়েকজন দর্শক। দৌড়ে এলো প্রহরী।
এই, এই, থামো! কালো চশমাওয়ালাকে বললো এক প্রহরী।
উঠে দাঁড়িয়েছে লোকটা। জানোয়ারটা বগলের তলায় চেপে রেখে কিশোরকে ধরলো। আরেক হাতে বেরিয়ে এসেছে একটা লম্বা ছুরি। কর্কশ কন্ঠে হুমকি দিলো, খবরদার, কাছে আসবে না! কিশোরকে টেনে নিয়ে চললো গেটের দিকে।
বোকা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রবিন আর মুসা। চোরটাকে ধরার জন্যে এগোলো দুই প্রহরী। ওদেরকে দেখে ফেললো সে। ক্ষণিকের জন্যে অসতর্ক হলো, মুহূর্তটার সদ্ব্যবহার করলো কিশোর। ঝাড়া দিয়ে লোকটার হাত থেকে ছুটে দিলো দৌড়। গাল দিয়ে উঠে তাকে ধরার জন্যে হাত বাড়ালো সে, ধরতে পারলো না। কিশোরের কাঁধে বাড়ি লেগে হাত থেকে ছুটে গেল ছুরিটা। উড়ে গিয়ে পড়লো মাটিতে।
তোলার সময় নেই বুঝে সে-চেষ্টা করলো না চোরটা। বগলের জানোয়ার টাকে হাতে নিয়ে ঝেড়ে দৌড় দিলো গেটের দিকে।
প্রহরীরা পিছু নিলো। ছেলেরাও ছুটলো ওদের পেছনে। ঘুরে সাগরের ধার দিয়ে দৌড়াতে লাগলো লোকটা। উঁচু কাঠের বেড়ার এক ফাঁক দিয়ে ঢুকে গেল পরিত্যক্ত পার্কের ভেতরে।
পিস্তল বের করলো দুই প্রহরী। ইশারায় ছেলেদেরকে আসতে বারণ করে নিজেরা সাবধানে ঢুকলো পার্কের ভেতরে। আর ফেরার নাম নেই। অধৈর্য হয়ে উঠলো কিশোর। বললো, নিশ্চয় কিছু হয়েছে। চলো তো দেখি!
বেড়ার ধার ঘুরেই থেমে গেল আবার। প্রহরীরা দাঁড়িয়ে আছে। চোরটা নেই।
ঘাসে ঢাকা ছোট্ট একটুকরো খোলা জায়গা। ডানে উঁচু বেড়া, বাঁয়ে মহাসাগর। পানিতে গিয়ে নেমেছে বেড়ার একমাথা। বেড়ার ওই অংশ কাঠের বদলে চোখা শিকের তৈরি। ওরা যেদিক দিয়ে ঢুকেছে, একমাত্র সেদিকটাই খোলা।
গেল কোনখান দিয়ে! বিড়বিড় করলো এক প্রহরী।
সাঁতরে যায়নি তো? রবিন বললো।
না। তাহলে দেখে ফেলতাম।
কিন্তু এখানেই তো ঢুকতে দেখলাম, ভোঁতা গলায় কিশোর বললো।
চারপাশে দেখতে দেখতে আচমকা চেঁচিয়ে উঠলো মুসা। দেখো! এগিয়ে। গিয়ে কি একটা জিনিস কুড়িয়ে নিলো। সবাই দেখলো, সেই স্টাফ করা জানোয়ারটা, যেটা নিয়ে পালাচ্ছিলো চোর। তারমানে ব্যাটা এখানে এসেছিলো।
নিয়ে পালাতে অসুবিধে হচ্ছিলো বোধহয়, রবিন মন্তব্য করলো। ফেলে। গেছে। কিন্তু পালালো কিভাবে?
নিশ্চয় বেড়ায় কোনো ফাঁকফোকর আছে, বললো আরেক প্রহরী।
কিংবা দরজা, বললো দ্বিতীয় প্রহরী।
বেড়ার নিচে সুড়ঙ্গও থাকতে পারে, মুসার অনুমান। বেড়ার একমাথা থেকে আরেকমাথা ভালোমতো খুঁজে দেখলো ওরা। মানুষ পালাতে পারে, এরকম কোনো গুপ্তপথই দেখলো না।
নাহ, কিচ্ছু নেই, আনমনে নিচের ঠোঁটে চিমটি কাটলো কিশোর।
ব্যাটার নিশ্চয় পাখা গজিয়েছে, এক প্রহরী বললো। উড়ে যাওয়া ছাড়া তো আর কোনো পথ দেখি না।
তাই তো, বললো দ্বিতীয় প্রহরী। বারো ফটু উঁচু বেড়া। ওড়া ছাড়া উপায় কী?
চিন্তিত ভঙ্গিতে বেড়ার ওপরের দিকে তাকিয়ে আছে কিশোর। সাঁতরে যায়নি বলছেন। বেড়ার নিচে সুড়ঙ্গ নেই। মানুষের পাখা গজানোও সম্ভব নয়। বেড়া পেরোনোর একটাই পথ, ডিঙিয়ে যাওয়া।
মাথা খারাপ! বললো প্রথম প্রহরী। ওই বেড়া ডিঙাবে কি করে?
কিশোর, মুসাও বললো। কিভাবে? বেয়ে ওঠা অসম্ভব।
আমিও তাই বলি, একমত হলো রবিন।
যাওয়ার আর যখন কোনো পথ নেই, অসম্ভবকেই কোনোভাবে সম্ভব করেছে, কিশোর বললো। এছাড়া বিশ্বাস যোগ্য আর কি ব্যাখ্যা আছে?
আর কোনো ব্যাখ্যা দিতে না পেরে এক প্রহরী বললো, চলে যখন গেছে, ওটা নিয়ে ভেবে আর লাভ নেই। আমাদের জিনিস তো ফেলে গেছে। চলো, যাই। জানোয়ারটার জন্যে মুসার দিকে হাত বাড়ালো সে।
বেড়ার দিকে তখন তাকিয়ে আছে কিশোর। প্রহরীর দিকে ফিলো। গ্যালারিতেই যাচ্ছি। আমরাই নিয়ে যাই।
তাহলে তো ভালোই হয়। আমাদের সময় বাঁচে। নিয়ে যাও। আমরা থানায় যাচ্ছি ডায়েরী করাতে।
প্রহরীরা চলে গেল।
গ্যালারির দিকে হাঁটতে হাঁটতে মুসা বললো, গ্যালারিতে কেন আবার? শুটিং। করে পুরস্কার নিতে?
চেষ্টা করতে দোষ কি? তবে সেজন্যে যাচ্ছি না। যাচ্ছি, সোনালি চুল ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করতে, জিনিসটা কেন ছিনিয়ে নিচ্ছিলো চোর, মুসার হাতের জানোয়াটার দিকে ইঙ্গিত করলো কিশোর।
এই প্রথম ওটাকে ভালো করে দেখার সুযোগ পেলো তিন গোয়েন্দা। স্টাফ করা একটা বেড়াল, লাল-কালো ডোরা। পা-গুলো বিচিত্র ভঙ্গিতে বাঁকানো, শরীরটাও। হা করা মুখে সাদা ধারালো দাঁত। এক কান খাড়া, আরেক কনি নিচে নামানো। একটা মাত্র চোখ, লাল, আরেকটা কানা। গলায় পাথর বসানো লাল। কলার। এরকম অদ্ভুত বেড়াল জীবনে এই প্রথম দেখছে ওরা।
এই জিনিস চাইছিলো কেন লোকটা? কিশোরের প্রশ্ন। দেখে তো দামি কিছু মনে হয় না।
হয়তো স্টাফ করা জানোয়ার সংগ্রহের বাতিক আছে, রবিন বললো। পছন্দের জিনিস জোগাড়ের জন্যে চুরি করতেও দ্বিধা করে না অনেকে।
কিন্তু তাই বলে স্টাফ করা বেড়াল? মুসা মানতে পারলো না। তা-ও আবার কারনিভলের শুটিং গ্যালারি থেকে? কতো আর দাম ওটার, বলো?
দামের ব্যাপারে মাথা ঘামায় না ওরা, কিশোর বললো। কোটিপতি লোকও চুরি করে। কিন্তু আমাদের এই চোরটাকে সেরকম, কেউ মনে হলো না। কে জানে, হয়তো হেরে গিয়ে জেদের বশেই করেছে কাজটা।
হেরে গেলেও অবশ্য আমি করতাম না। তবে, আমাকে ঠকানোর চেষ্টা করলে অন্য কথা…..
শুটিং গ্যালারিতে ঢুকলো ওরা। কাউন্টারের ওপাশ থেকে হেসে সাগত জানালো ওদেরকে সোনালি-চুল ছেলেটা। কি সাংঘাতিক! চোরটাকে ধরেছে? জিজ্ঞেস করলো সে।
পালিয়েছে, হাতের বেড়ালটা দেখালো মুসা। এটা ফেলে। যার জিনিস তাকে ফিরিয়ে দিলো সে।
যাবে কোথায়? পুলিশ ধরে ফেলবে, বলতে বলতে রেগে গেল ছেলেটা। পাঁচটা হাঁসের মাত্র তিনটা ফেলেছে, অথচ বলে কিনা আমি ঠকিয়েছি, আবার.. হাসলো সে। আমি রবি কনর। এই বুঁদ আমার। তোমরা কি এ-লাইনের?
চোখ মিটমিট করলো রবিন। মানে?
ও বলতে চাইছে, কিশোর বুঝিয়ে দিলো, আমরাও ওর মতো কারনিভল কিংবা সার্কাসের লোক কিনা।…না, রবি, আমরা অন্য কাজ করি। রকি বীচেই থাকি। আমি কিশোর পাশা…ও মুসা, আমান…আর ও হলো রবিন মিলফোর্ড। তিনজনে একই ইস্কুলে একই ক্লাসে পড়ি, বন্ধু।
খুব খুশি হলাম, তারপর গর্বিত ভঙ্গিতে যোগ করলো সোনালি-চুল, আমি কিন্তু এ-লাইনের ফুল অপারেটর। পাঙ্ক কিংবা রাফনেক নই।
কি বললো ও? কিশোরের দিকে চেয়ে ভুরু নাচালো মুসা। ভিনগ্রহের ভাষা?
না, এই গ্রহেরই। পাঙ্ক হলো কারনিভলের শিক্ষানবিস, আর রাফনেক শ্রমিক গগাছের লোক। রবি, তোমার বয়েসে ফুল অপারেটর হওয়া একটু অস্বাভাবিক না?
এই কারনিভলের মালিক আমার বাবা তো, বলেই বুঝলো বোকামি হয়ে গেছে, কথা ঘুরিয়ে ফেললো রবি। বাবা বলে, যেকোনো কারনিভলে ফুল অপারেটরের কাজ চালাতে পারবো আমি। তা তোমরা খেলবে নাকি? পুরস্কার জিততে চাও?
ওই কানা বেড়ালটা জিততে চাই আমি, মুসা বললো।
বাহ্, ভালো নাম দিয়ে ফেলেছো তো! কানা বেড়াল…হাহ্ হাহ্!
যাও না, দেখো চেষ্টা করে, কিশোর বললো মুসাকে। রবি, বেড়ালটা পুরস্কারের জন্যে তো?
হাসলো রবি। নিশ্চয়। তবে পাঁচ গুলিতে পাঁচটা হসিই ফেলতে হবে। আমি নাম দিয়েছিলাম বাকা বেড়াল, কিন্তু কানা বেড়াল শুনতে ভাল্লাগছে। ঠিক আছে, কানা বেড়ালই সই। ওটা ফার্স্ট প্রাইজ। জেতা কঠিন। তা-ও জিতে নিয়ে গেছে লোকে, চারটে। আর মাত্র একটাই আছে।
বেশ, পঞ্চমটা আমি জিতবো, সদম্ভে ঘোষণা করলো মুসা। এগিয়ে গিয়ে কাউন্টারের সঙ্গে শেকল দিয়ে বাঁধা রাইফেলটা তুলে নিলো।
দাঁড়াও, দাঁড়াও! হাত নাড়লো রবি। প্রায় লাফ দিয়ে এসে দাঁড়ালো কাছে।
কী? সচকিত হলো মুসা।
পয়সা, হেসে, খাঁটি পেশাদারি ভঙ্গিতে হাত বাড়ালো রবি। আগে পয়সাটা দিয়ে নাও।
এরকম করেই কথা বলো নাকি তুমি? রবিনও অবাক হয়েছে।
পকেট থেকে পয়সা বের করে দিলো মুসা। সেটা হাতে নিয়ে রবি বললো, বাবা বলে, আমার রক্তেই রয়েছে কারনিভল। জাত কারমিভল-ম্যান।
রাইফেল কাঁধে ঠেকিয়ে নিশানা করলো মুসা। সাবধানে টিপলো ট্রিগার পড়ে গেল একটা খেলনা হাঁস। পর পর গুলি করে আরও দুটো ফেলে দিলো।
বাহ, ভালো হাত তো তোমার, হাততালি দিলো রবি। সাবধান। এখনও দুটো বাকি।
আবার গুলি করলো মুসা। ফেলে দিলো চতুর্থটা।
আরি! মুসাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করার জন্যে বললো রবি, ঘাবড়ে দিয়ে তার হাত কাপিয়ে দিতে চায়। সত্যি জাত কারনিভল-ম্যান, ভুল বলে না তার বাবা। সাংঘাতিক তো! তবে শেষটা ফেলা খুব কঠিন। ভালো মতো সই করো।
রবির উদ্দেশ্য বুঝে কিশোর বললো, কাকে কি বলছো, রবি? আফ্রিকায়। সিংহ শিকারে যাওয়ার জন্যে তৈরি হচ্ছে ও, উড়ন্ত ঘুঘু ফেলে দেয়, আর এ-তো। কিছুই না। মারো, মুসা, ফেলে দাও। বেড়ালটা আমাদের দরকার।
ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে আছে রবি। বুঝতে পারছে, বিফল হয়েছে সে। স্থির। হয়ে আছে মুসার হাত, রাইফেল ধরা আঙুলগুলো নিথর। ট্রিগারে আলতো চাপ।
পড়ে গেল পঞ্চম হাঁসটাও।
জিতেছি! চেঁচিয়ে উঠলো মুসা। গলা কাঁপছে। ভেতরে ভেতরে প্রচণ্ড উত্তেজিত, গুলি করার সময় অনেক কষ্টে চেপে রেখেছিলো।
দারুণ দেখিয়েছো, মুসা, গোয়েন্দা-সহকারীর পিঠ চাপড়ে দিলো রবি। চমৎকার নিশানা। বেড়ালটা তার হাতে দিতে দিতে বললো, এই নাও, ফার্স্ট প্রাইজ শেষ। নতুন কোনো পুরস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। অ্যানটিক কয়েকটা ছুরি আছে, ওয়েস্টান কাউবয়রা ব্যবহার করতো।
চোখ চকচক করে উঠলো কিশোরের। ছুরি তার খুব পছন্দ। ওয়েস্টান কাউবয়দের জিনিস শুনে লোভ সামলাতে পারলো না। তাড়াতাড়ি পয়সা বের করে দিলো রবির হাতে। রাইফেল তুলে নিলো।
পাঁচটা ফেলতে হবে কিন্তু, মনে করিয়ে দিলো রবি।
পর পর দুটো হাঁস ফেললো কিশোর। পরের তিনটে মিস করলো। একবারের বেশি সুযোগ দেয়ার নিয়ম নেই, মুখ কালো করে সরে দাঁড়ালো সে।
আমি দেখি তো, রবিন এগিয়ে এলো। পয়সা দিয়ে রাইফেল তুলে নিলো। ছুরিটা পেলে কিশোরকে উপহার দেবে।
সে-ও দুটোর বেশি ফেলতে পারলো না।
ইতিমধ্যে জমে উঠছে কারনিভল, ভিড় বাড়ছে। শুটিং গ্যালারিতেও বেশ লোক জমেছে।
তিন গোয়েন্দাকে অনুরোধ করলো রবি, তোমরা একটু থাকবে এখানে? আমি চট করে গিয়ে ছুরিগুলো নিয়ে আসি। এই কাছেই আছে।
তিনজনকেই থাকতে হবে? মুসা বললো।
কেন, আসতে চাও? বেশ, এসো। ইচ্ছে করলে আরও একজন আসতে পারো। এখানে একজন থাকলেই চলবে।
রবিন, তুমি যাও, কিশোর বললো। আমি থাকি।
গ্যালারির পেছনে দুই গোয়েন্দাকে নিয়ে এলো রবি। কারনিভলের মূল এলাকার চেয়ে আলো এখানে কম। ছোট একটা ব্যাগেজ ট্রেলার দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।
কাছেই রাখি, কারণ জানালো রবি, চোরের ভয়ে। সুযোগ পেলেই এটা ওটা। নিয়ে চলে যায়। তাই চোখে চোখে রাখতে হয়।
ঢাকনা খুলে ভেতর থেকে একটা পোটলা বের করলো রবি। সেটা থেকে ছুরির বাক্স বের করে রবিনের হাতে দিলো, ধরো, আমি ঢাকনা, হঠাৎ থেমে গেল সে। মুসার পেছনে তাকিয়ে আছে, চোখ বড় বড়। কি সাংঘাতিক! একদম চুপ! নড়বে না কেউ! ফিসফিসিয়ে বললো।
ভ্রূকুটি করলো রবিন। বোকা বানানোর চেষ্টা কোরো না, রবি। ওসব। কারনিভলের কায়দা…
চুপ! রবির কণ্ঠে, ভয় মেশানো উত্তেজনা। আস্তে, খুব আস্তে ঘোরো। কিং!
স্থির হয়ে গেল দুই গোয়েন্দা। ঢোক গিললো মুসা। ধীরে ধীরে ঘুরলো দুজনেই। শুটিং গ্যালারির পরে আরেকটা বুদ, কোনো ধরনের খেলা দেখামোর জায়গা। কারনিভলে ঢোকার মূল গলিপথ থেকে দেখা যায় না ওই বুদের পেছনটা। মাঝে ঘাসে ঢাকা একটুকরো ভোলা জায়গা। সেখানে, ছেলেদের কাছ থেকে বড় জোর বিশ ফুট দূরে দাঁড়িয়ে আছে কালো কেশরওয়ালা এক মস্ত সিংহ।
শুটিং গ্যালারির দিকে পিছিয়ে যাও, নিচু গলায় বললো রবি। তাড়াহুড়ো করবে না। বুনো নয় কিং, পোষা, ট্রেনিং পাওয়া। কিন্তু চমকে গেলে বিপদ বাধাবে। বুদে ঢুকতে পারলেই আমরা নিরাপদ। ফোন আছে ওখানে, সাহায্য চাইতে পারবো।
ছেলেরা ছাড়া আর কারও চোখে পড়েনি এখনও সিংহটা। জুলজুলে হলুদ চোখ। হা করে বিকট হলদে দাঁত দেখালো। ঝাঁকি দিলো রোমশ কালো লেজের ডগা।
না, রবি, মুসার কণ্ঠ কাঁপছে। রাস্তার দিকে চলে যেতে পারে সিংহটা।
কিন্তু আর কি করবো? মারকাস ছাড়া সামলাতে পারবে না ওকে।
সিংহের চোখে চোখ রাখলো মুসা। ফিসফিসিয়ে বললো, তুমি রবিনকে নিয়ে। চলে যাও। জানোয়ার সামলানোর অভিজ্ঞতা আছে আমার, দেখি চেষ্টা করে। তুমি গিয়ে মারকাসকে পাঠাও।
মুসাআ! বন্ধুকে বিপদে ফেলে যেতে চাইছে না রবিন।
তার কণ্ঠ শুনে মৃদু গর্জন করে উঠলো সিংহটা।
জলদি যাও! ফিসফিসিয়ে জরুরী কণ্ঠে বললো মুসা। তাকিয়ে আছে সিংহের দিকে।
পিছাতে শুরু করলো রবিন আর রবি। ওদের দিকে চেয়ে এক কদম আগে বাড়লো সিংহ। খাঁচা থেকে বেরিয়ে দ্বিধায় পড়ে গেছে, অস্বস্তিতেও বোধহয়। শান্ত, দৃঢ়কণ্ঠে আদেশ দিলো মুসা, থামো, কিং। শোও…শুয়ে পড়ো।
চট করে ফিরে তাকালো সিংহ। পা বাড়াতে গিয়ে থেমে গেল। হলুদ চোখে সতর্কতা।
এই তো, লক্ষী ছেলে, লক্ষ্মী কিং।
ধীরে ধীরে লেজ দোলাচ্ছে সিংহ। অচেনা একটা ছেলের মুখে নিজের নাম আর আদেশ শুনে অবাক হয়েছে যেন। কোনো দিকেই তাকালো না মুসা। ক্ষণিকের জন্যেও চোখ সরালো না সিংহের, চোখ থেকে। আবার বললো, শোও…শুয়ে পড়ো, কিং।
এক মুহূর্ত বিরতি দিয়ে গলা সামান্য চড়িয়ে শেষবার আদেশ দিলো, শোও, কিং! কথা শোনো!
চাবুকের মতো লেজ আছড়ালো সিংহ। আশোঁপাশে তাকিয়ে কী যেন বোঝার চেষ্টা করলো, তারপর ধপ করে গড়িয়ে পড়লো ঘাসের ওপর। বিশাল মাথা তুলে বেড়ালের মতো তাকালো মুসার দিকে, ঘড়ঘড় শুরু করবে বুঝি এখুনি।
গুড, কিং।
হঠাৎ পেছনে কথা সোনা গেল। লম্বা পায়ে মুসার পাশ দিয়ে সিংহের দিকে। এগিয়ে গেল মারকাস। হাতে একটা বেত আর একটা শেকল। মোলায়েম গলায় কথা বলতে বলতে যাচ্ছে, খানিক আগে মুসা যেরকম করে বলেছিলো। বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে কেশরে ঢাকা মোটা গলাটায় শেকল পরিয়ে দিলো। তারপর টানতে টানতে নিয়ে চললো খাঁচার দিকে। সিংহটাও প্রতিবাদ করলো না, শান্ত সুবোধ প্রভুভক্ত কুকুরের মতো চলেছে পিছে পিছে।
ঢোক গিললো মুসা। উত্তেজনা প্রশমিত হতেই ফ্যাকাসে হয়ে গেল মুখ। বিড়বিড় করলো, খাইছে!
পাশে এসে দাঁড়ালো রবিন, কিশোর আর রবি।
দারুণ দেখিয়েছো! রবি বললো।
সত্যিই দারুণ, সেকেণ্ড! এভাবে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা সাধারণত করে না গোয়েন্দাপ্রধান, লোকের দোষই বেশি দেখে। আর খুঁতখুঁত করে। কিং যে ছুটেছে, কেউ জানে না। একটা দুর্ঘটনা বাঁচিয়েছো।
এতো প্রশংসায় লজ্জা পেলো মুসা। জবাব দেয়ার আগেই দেখলো ফিরে আসছে মারকাস দ্য হারকিউলিস। কাছে এসে শক্ত করে চেপে ধরলো মুসার কাধ। খুব, খুবই সাহসী তুমি, ইয়াং ম্যান। বলা যায় দুঃসাহসই দেখিয়ে ফেলেছে। এমনিতে কিং শান্ত, কিন্তু লোকে ভয় পেয়ে হৈ-চৈ শুরু করলে ঘাবড়ে যেতো সে। বিপদ ঘটতো।
আরও অস্বস্তিতে পড়লো মুসা, কোনোমতে হাসলো। আমি জানতাম, স্যার, ও পোষা। নইলে কখন, ভাগতাম।
তবু আমি বলবো দুঃসাহস দেখিয়েছো। খাঁচার ভেতর সিংহ দেখেই কতোজনে ভয় পেয়ে যায়। তিন গোয়েন্দার দিকে চেয়ে চোখ নাচালো লায়ন। ট্রেনার। কিঙের খেলা দেখবে?
দেখাবেন? উৎসাহে প্রায় চেঁচিয়ে উঠলো মুসা। কখন?
কয়েক মিনিটের মধ্যেই খেলা শুরু হবে।
নিজের তাঁবুতে ফিরে চললো মারকাস। এখানে আরও কিছুক্ষণ কাটিয়ে, রবি ফিরে গেল তার নিজের বুদে। শুটিং গ্যালারিতে তখন রীতিমতো ভিড় জমেছে।
সিংহের খেলা যে তাঁবুতে দেখানো হবে সেদিকে রওনা হলো তিন গোয়েন্দা। পথে দেখা গেল, দর্শক জমিয়ে ফেলেছে দুই ভাড়। একজন বেঁটে, মোটা। আরেকজন লম্বা, পাতলা নাক, বিষণ্ণ চেহারা, সাদা রঙ মেখে আরও বিষণ্ণ করে ফেলেছে। ভবঘুরে সেজেছে সে। ঢোলা প্যান্টের পায়ের কাছটা বেঁধেছে দড়ি দিয়ে। তার সঙ্গী হাসিখুশি। নানারকম শারীরিক কসরত দেখাচ্ছে, ডিমে তা-দেয়া। মুরগীর মতো বিচিত্র শব্দ করছে গলা দিয়ে।
বিষণ্ণ চোখে সঙ্গীর খেলা দেখছে লম্বা ভড়, তাকে অনুসরণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছে। করুণ করে ফেলছে চেহারা। আবার চেষ্টা করছে, আবার বিফল হচ্ছে। বিষণা থেকে বিষণ্ণতর হয়ে যাচ্ছে চেহারা। তার এই কাণ্ড দেখে দর্শকরা হেসে অস্থির। শেষে, কঠিন একটা খেলা দেখাতে গিয়ে ইচ্ছে করেই ব্যর্থ হয়ে হাত-পা ছড়িয়ে চিত হয়ে পড়লো বেঁটে ভাড়। অবশেষে হাসি ফুটলো লম্বার মুখে।
চমৎকার অভিনয়, কিশোর বললো। সে নিজে ভালো অভিনেতা, তিন বছর বয়েসেই অভিনয় করেছে টেলিভিশনে। ফলে কারও ভালো অভিনয় দেখলে ভালো লাগে তার।
সিংহের তাঁবুর দিকে চললো আবার ওরা। তাঁবুর এধারে পর্দা দিয়ে আলাদা। করা। এপাশে দর্শকদের দাঁড়ানোর জায়গা। বড় একটা খাঁচা, মাঝে শিকের আলগা বেড়া দিয়ে আলাদা করা। ভেতরে সেই গামলা: দুটো, পাশা স্যালভিজ ইয়ার্ড থেকে রঙ করে আনা হয়েছে যেগুলো। খাঁচার ছাত থেকে ঝুলছে একটা ট্রাপিজ।
ছেলেরা তাঁবুতে ঢোকার পর পরই পর্দার ওপাশ থেকে বেরিয়ে এলো। মারকাস। দর্শকদের উদ্দেশ্যে বাউ করে গিয়ে খাঁচায় ঢুকলো। মাঝের বেড়াটা সরিয়ে দিয়ে ইঙ্গিতে ডাকলো। ভয়ঙ্কর বুনো গর্জন করতে করতে খাঁচার এধারে চলে এলো কিং। চক্কর দিতে লাগলো খাঁচার স্বল্প পরিসরে, চোখমুখ পাকিয়ে এসে থাবা মেরে মারকাসকে ধরার চেষ্টা করতে লাগলো।
হাসলো ছেলেরা। বুঝতে পারছে, সিংহটাও অভিনয় করছে ট্রেনারের সঙ্গে। লাফালো, গড়াগড়ি দিলো, নাচের ভঙ্গিতে পা ফেললো, ডিগবাজি খেলো, সব শেষে লাফিয়ে উঠলো ঝুলন্ত ট্র্যাপিজে। চোখ কপালে তুলে দিলো দর্শকদের।
আরিব্বাপরে! মুসা বললো। কতো কি করছে! আমি তো শুধু ওকে শুইয়েছি।
খুব ভালো খেলা দেখাচ্ছে, তাই না, কিশোর? বলে, পাশে দাঁড়ানো কিশোরকে কনুই দিয়ে গুঁতো মারতে গেল রবিন, কাত হয়ে গেল একপাশে। কারো গায়ে লাগলো না তার কনুই। কিশোর নেই ওখানে।
গেল কই? খোঁজ, খেজ। গোয়েন্দাপ্রধানের দেখা মিললো সিংহের খাঁচার পেছনে, কখন গেছে ওখানে খেয়ালই করেনি দুই সহকারী।
এখানে কি, কিশোর? জানতে চাইলো রবিন।
মুখে কিছু না বলে আঙুল তুলে ট্রেলারটা দেখালো কিশোর, তাঁবুর ভেতরেই থাকে ওটা, পর্দার অন্যপাশে। সিংহের ঘর। খেলা দেখানোর সময় খাঁচায় ঢেকে সিংহটা, অন্য সময় থাকে ট্রেলারটাতে ট্রেলার আর খাঁচা একসঙ্গে যুক্ত, মাঝে শিকের বেড়া। বেড়া সরিয়ে দিলেই ট্রেলার থেকে খাঁচায় চলে আসতে পারে ওটা, বাইরে দিয়ে আসার দরকার হয় না। ট্রেলারের দরজায় বড় তালা লাগানো থাকে। কড়া দেখালো কিশোর। ভালো করে দেখো, বুঝবে, গম্ভীর কণ্ঠে বললো সে। জোর করে খোলা হয়েছে। ইচ্ছে করেই কেউ ছেড়ে দিয়েছিলো কিংকে।
তখন থেকেই ভাবছিলাম, বেরোলো কি করে সিংহটা? বললো কিশোর। তাঁবুতে ঢুকে মনে হলো, যাই, দেখিই না। দেখলাম। কিন্তু কথা হলো, মারকাসের অগোচরে কে ছাড়লো কিংকে? তালাটা তুলে দেখালো সে। এই দেখো, চাবির ফুটোর চারধারে আঁচড়ের দাগ, নতুন। বেশিক্ষণ হয়নি খুলেছে।
তুমি শিওর, কিশোর? বিশ্বাস হচ্ছে না, কিন্তু কিশোরের কথা অবিশ্বাসও করতে পারছে না রবিন।
মাথা ঝাঁকালো কিশোর।
কে করলো কাজটা? মুসার প্রশ্ন।
তিনজনেই ভাবছে, এই সময় পর্দার ওপাশে জোর হাততালি শোনা গেল। খেলা শেষ। লাফাতে লাফাতে এসে ট্রেলারে ঢুকলো কিং।
উন্মাদের কাজ, রবিন বললো।
সিংহটার দিকে চিন্তিত ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে কিশোর। উন্মাদ? আমার তা মনে হয় না। নিশ্চয় কোনো কারণ আছে।
যেমন? মুসা জানতে চাইলো।
হতে পারে, দর্শককে ভয় দেখিয়ে কারনিভল করা কিংবা সিংহ পাকড়াও করে হিরো সাজার ইচ্ছে। কিংবা লোকের নজর আরেকদিকে সরিয়ে দিয়ে ফাঁকতালে কোনো জরুরী কাজ সেরে ফেলা।
কিন্তু তেমন তো কিছু ঘটেনি, মুসা বললো।
হিরো সাজতেও আসেনি কেউ, বললো রবিন।
আসার সময়ই হয়তো দেয়নি মুসা। অথবা যে কাজটা সারতে চেয়েছিলো। সেই লোক, সেটার সুযোগ দেয়নি। থামিয়ে দিয়েছে সিংহটাকে।
কারনিভল বন্ধ করতে চাইবে কেন কেউ? নিজেকেই যেন প্রশ্ন করলো রবিন। লোকের মারাত্মক ক্ষতি করে? সিংহ ছেড়ে দেয়া ছাড়া কি আর উপায় ছিলো না?
জানি না, বিড়বিড় করলো কিশোর।
কে করেছে ভাবছো? কারনিভলের কেউ?
মনে হয়। একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছো, ট্রেলারের কাছ থেকে বেশ দূরে চলে গিয়েছিলো? যেন, পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো তাকে সেখানে।
মারকাস? জবাবটা নিজেই দিয়ে দিলো মুসা, না, সে নয়। তালা জোর করে খোলার দরকার হতো না তার। নিশ্চয় চাবি আছে।
ধোঁকা দেয়ার জন্যে করতে পারে। রবি গিয়ে বলার পর তবে তার টনক, নড়লো। আরও আগে খোঁজ করলো না কেন সিংহটার? বিশেষ করে, কয়েক মিনিট পরেই যখন খেলা দেখানোর কথা?
জবাব খুঁজে পেলো না দুই সহকারী।
ভ্রূকুটি করে কিশোর বললো আবার, সমস্যাটা হলো, প্রায় কিছুই জানি না আমরা এখনও। কে, কেন করেছে আন্দাজই করতে পারছি না। তবে…
তবে কী? বাধা দিয়ে বললো মুসা। রহস্য মনে করছো নাকি এটাকে? তদন্ত করার কথা ভাবছো?
হ্যাঁ, ভাবছি…, শুরু করেই থেমে গেল সে। ঠোঁটে আঙুল রেখে কথা বলতে নিষেধ করলো। বুড়ো আঙুল নেড়ে দেখালো তাঁবুর পেছন দিকে।
বিশাল একজন মানুষের ছায়া পড়েছে তাঁবুর দেয়ালে। চওড়া কাঁধ। কেমন হেলে রয়েছে মাথাটা, তাঁবুর গায়ে কান ঠেকিয়ে ভেতরের কথা শুনছে যেন। ছায়া দেখে মনে হয় না গায়ে কাপড় আছে।
জলদি বেরোও, ফিসফিস করে বললো কিশোর।
তাঁবুর পেছন দিয়ে পথ নেই। সামনে দিয়েই বেরোলো ওরা। ঘুরে তাড়াতাড়ি চলে এলো তাঁবুর এক কোণে, পেছনে কে আছে দেখার জন্যে।
কেউ নেই।
পালিয়েছে, রবিন বললো।
এই সময় পেছনে শোনা গেল পায়ের শব্দ। এই যে, কানের কাছে গমগম করে উঠলো ভারি কণ্ঠ, তোমরা এখানে কি করছো?
চমকে উঠলো তিনজনেই। ঢোক গিললো মুসা। ফিরে তাকিয়ে দেখলো বিশালদেহী একজন মানুষ। কালো চোখ। কাঁধে ফেলা লম্বা, ভারি একটা হাতুড়ি।
আ-আ-আমরা…, তোতলাতে শুরু করলো মুসা।
রবি এসে দাঁড়ালো মানুষটার পেছনে। তিন গোয়েন্দাকে দেখে উজ্জ্বল হলো: চোখ। বাবা খুঁজে পেলো তাহলে তোমাদের।
তোমার বাবা? আবার ঢোক গিললো মুসা।
হ্যাঁ, খোকা, হাসি ফুটলো তার মুখে, হাতুড়িটা নামিয়ে রাখলেন মাটিতে, হাতল ধরে রেখেছেন। ধন্যবাদ জানানোর জন্যে খুঁজছিলাম তোমাদের। কিংকে সামলে মহা-অঘটন থেকে বাঁচিয়েছো। রাফনেকদের সাহায্য করছিলাম, তাই তখন আমাকে খুঁজে পায়নি রবি।
তোমাদেরকে পুরস্কার দিতে চায় বাবা, রবি বললো।
পুরস্কারের কথায় কানা বেড়ালটার কথা মনে পড়লো মুসার। খাইছে! আমার। বেড়াল! দ্রুত চারপাশে তাকালো সে, বেড়ালটা খুঁজলো। নেই।
বেড়াল? অবাক হলেন মিস্টার কনর।
শুটিং গ্যালারিতে পুরস্কার পেয়েছিলো, বাবা, রবি জানালো। ফার্স্ট প্রাইজ।
সিংহের তাঁবুতে ফেলে এসেছে হয়তো, মুসাকে বললো রবিন।
কিন্তু তাঁবুতে তন্নতন্ন করে খুঁজেও বেড়ালটা পাওয়া গেল না। শুটিং . গ্যালারিতে চললো সবাই। সেখানেও নেই ওটা। এমনকি মুসা যেখানে কিংকে শুইয়েছে সেখানেও নেই।
ছিলো তো, কোথায় রেখেছে, মনে করতে পারছে না মুসা, আমার হাতেই ছিলো। সিংহটাকে যখন দেখলাম, তখনও ছিলো। ভয়ে হয়তো হাত থেকে ছেড়ে দিয়েছি, কেউ তুলে নিয়ে গেছে।
নীরবে ভাবছিলো কিশোর। কড়ে আঙুল কামড়াচ্ছিল। দাঁতের ফাঁক থেকে সরিয়ে নিয়ে বললো, মনে করতে পারছো না?
আস্তে মাথা নাড়লো মুসা।
এতো মন খারাপ করছো কেন? মিস্টার কনর বললেন। আরেকটা পুরস্কার দেবো। বেড়ালের চেয়ে ভালো কিছু।
আর চেপে রাখতে পারলো না কিশোর। বলে ফেললো, মিস্টার কনর, আপনার কারনিভলে কোনো গোলমাল চলছে?
গোলমাল? কালো চোখের তারা স্থির নিবদ্ধ হলো কিশোরের ওপর। কেন, একথা কেন?
এই সিংহের তাঁবুতে আমরা কথা বলছিলাম। এই সময় তার পেছনে একটা লোকের ছায়া দেখলাম, মনে হলো আমাদের কথা আড়িপেতে শুনছে সে।
তোমাদের কথা আড়িপেতে শুনেছে? ভুরু কোঁচকালেন তিনি। তারপর, হেসে উঠলেন। ভুল করেছো। কিং তোমাদের ঘাবড়ে দিয়েছে। ভয় পেলে হয় ওরকম। উল্টোপাল্টা দেখে লোকে, শোনে
জানি, বাধা দিয়ে বললো কিশোর। কিন্তু ব্যাপারটা আমাদের কল্পনা নয়। তিনজনেই দেখেছি। আর কিংও নিজে থেকে ছাড়া পায়নি, ট্রেলারের দরজা খুলে। দেয়া হয়েছিলো।
কি যেন ভাবলেন মিস্টার কারসন। এসো, আমার ট্রেলারে। শো দেখানোর জায়গা থেকে খানিক দূরে মাঠের মধ্যে পার্ক করা রয়েছে কারনিভলের লোকদের ট্রাক, ট্রেলার, কার। একটা ট্রাকের পেছনে লাগানো ট্রেলারে থাকে বাপ-ছেলে, মিস্টার কনর- আর রবি। ট্রেলারের ভেতরে দুটো বাংক, কয়েকটা চেয়ার, একটা ডেস্ক–তাতে কাগজপত্র ছড়ানো, ছোট একটা আলমারি, বড় ঝুড়িতে নানারকম বাতিল জিনিস ছেঁড়া স্টাফ করা একটা কুকুর, একটা বেড়াল, কিছু ভাঙা পুতুল।
বাতিল মাল কিনে সারিয়ে নিই আমি, গর্বের সঙ্গে বললো রবি। পরে পুরস্কার দিই।
বসো, ছেলেদের বললেন কনর। সব খুলে বলো আমাকে।
বলার তেমন কিছু নেই, স্যার, কিশোর বললো। তবে কিংকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে, এটা ঠিক। জোর করে তালা খোলার চিহ্ন আছে।
এমনভাবে কথা বলছে, যেন অভিজ্ঞ গোয়েন্দা, হাসলেন মিস্টার কনর।
গোয়েন্দাই, স্যার, পকেট থেকে তিন গোয়েন্দার কার্ড বের করে দিলো কিশোর। অনেক জটিল রহস্যের সমাধান করেছি আমরা।
কার্ডটা পড়ে মাথা দোলালেন কনর। ভালো। মজার হবি…
ঠিক হবি নয়, স্যার, আমরা সিরিয়াস। বলে পকেট থেকে বের করে দিলো আরেকটা কাগজ, পুলিশ চীফ ইয়ান ফ্লেচারের দেয়া সার্টিফিকেট।
সেটাও পড়লেন কনর। হু, আসল গোয়েন্দা বলেই মনে হচ্ছে। পুলিশ তো আর মিছে কথা বলবে না। সে যাই হোক, ইয়াং ম্যান, এখানে কোনো কেস নেই। তোমাদের জন্যে। কোনো রহস্য নেই। তুমি ভুল করেছে।
কিশোর পাশা ভুল করে না, স্যার, ঘোষণা করলো রবিন।
ওরকম জোর দিয়ে কিছু বলা যায় না, হেসে বললেন কনর। বলতে পারো, সাধারণত ভুল করে না। একেবারেই ভুল করে না, এটা হতে পারে না। মানুষ মাত্রেই ভুল করে।
কিন্তু, বাবা…, বলতে গিয়ে বাধা পেলো রবি।
কনর বললেন, থামো, রবি, অনেক হয়েছে। ওসব কথা আর শুনতে চাই না, উঠে দাঁড়ালেন তিনি। কিশোর ভুল করেছে। তবে আমাদের অনেক উপকার করেছে ওরা, পুরস্কার একটা অবশ্যই দিতে হয়। কারনিভলের তিনটে ফ্রি পাস। তিনটে কার্ড বের করে দিলেন তিন গোয়েন্দার হাতে। কী, খুশি হয়েছে তো?
নিশ্চয়, বললো বটে, হাসি দেখা গেল না গোয়েন্দাপ্রধানের মুখে।
আরি! দরজার দিকে হাত তুলে চেঁচিয়ে উঠলো রবিন।
সবাই তাকালো। পেছনের দরজার পর্দায় মস্ত ছায়া পড়েছে। লম্বা এলোমেলো চুল, চাপ দাড়ি, পেশীবহুল চওড়া কাঁধ।
ওই যে ছায়া! দাঁতের ফাঁক দিয়ে হিসহিস শব্দ বেরোলো মুসার।
ডাকলেন কনর।
ঘরে ঢুকলো একজন লোক। হাঁ করে তার দিকে তাকিয়ে রইলো ছেলেরা। স্বাভাবিক উচ্চতা, কিন্তু দেখার মতো মাংসপেশী। ঠেলে ফুলে উঠেছে নগ্ন কাঁধের। পেশী। পরনে কালো-সোনালি রঙের আটো পাজামা, গায়ের সঙ্গে মিশে রয়েছে। পায়ে চকচকে বুট। কালো অগোছালো চুল-দাড়ি কেমন যেন বন্য করে তুলেছে। চেহারাটাকে।
ও আমাদের স্ট্রং ম্যান, পরিচয় করিয়ে দিলেন কনর, ওয়ালশ কোহেন। একটা রহস্যের তাহলে সমাধান হয়ে গেল, বয়েজ। কারনিভলে, একজন মানুষ। নানারকম কাজ করে, কোহেনও ব্যতিক্রম নয়। সে আমাদের সিকিউরিটি ইনচার্জ। তোমাদের ঘোরাফেরা দেখে নিশ্চয় সন্দেহ হয়েছিল তার, চুপ করে গিয়ে। দেখে এসেছে কি করছো।
ঠিকই বলেছেন, স্বীকার করলো কোহেন। মোটা, ভারি গলা।
মাথা ঝোকালেন কনর। তো, ছেলেরা, কোহেনের সঙ্গে আমার জরুরী কথা আছে। রবিরও শুটিং গ্যালারিতে যাওয়া দরকার। তোমরা ঘোরো গিয়ে, যা ইচ্ছে দেখো। ফ্রি পাস আছে, কোথাও পয়সা দিতে হবে না।
থ্যাংক ইউ, স্যার, শান্তকণ্ঠে বললো কিশোর। ইশারায় রবিন আর মুসাকে। আসতে বলে পা বাড়ালো দরজার দিকে। বাইরে বেরিয়ে সোজা চলে এলো। ট্রেলারের পেছনে।
কি করছো? রবিন জিজ্ঞেস করলো।
আমি শিওর, কিছু একটা ঘটছে এখানে, নিচু গলায় বললো কিশোর। কোহেনকে সন্দেহ হচ্ছে আমার। প্রহরীর মতো লাগে না। এমনভাবে তাঁবুর কাছে আড়ি পেতে ছিলো, যেন চোর। আর রবিও কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলো, তার বাবা থামিয়ে দিয়েছেন। কাজেই জানালার কাছে দাঁড়িয়ে শুনবো কি হচ্ছে।
সরো! বলতে বলতেই দুজনকে ঠেলে আড়ালে নিয়ে এলো মুসা।
ট্রেলার থেকে নেমে দ্রুত গ্যালারির দিকে চলে গেল রবি, কোনোদিকে তাকালো না। পা টিপে টিপে, জানালার কাছে এসে দাঁড়ালো ছেলেরা।
কোহেনের ভারি গলা শোনা গেল, কিংও. ছুটলো। এরপর কি ঘটবে, কনর? হয়তো শেষ পর্যন্ত বেতনই দিতে পারবেন না আমাদের।
আগামী হপ্তায়ই বেতন পাবে। এতো চিন্তা করো না।
আপনাকে আর কি বলবো? জানেনই কারনিভলের লোকেরা কুসংস্কারে। বিশ্বাসী। আজকের শো তেমন জমছে না। আরও অঘটন ঘটবে।
কোহেন, শোনো। তুমি…।
ভেতরে পায়ের শব্দ। ছেলেদের মাথার ওপরে বন্ধ হয়ে গেল জানালা। আর কথা শোনা গেল না। দাঁড়িয়ে থেকে লাভ নেই। সরে চলে এলো তিন গোয়েন্দা।
সত্যিই গণ্ডগোল, বলে উঠলো মুসা। কিন্তু আমরা কি করতে পারি? মিস্টার। কনর আমাদের পাত্তাই দিলেন না।
কিশোর চিন্তিত। রবিকেও কিছু বলতে দিলো না। যাকগে, পাস আছে। আমাদের। নজর রাখতে পারবো। রবিন, কাল লাইব্রেরিতে গিয়ে পত্রিকা ঘাটবে। দেখবে, অন্যান্য শহরে কারনির্ভুলটা কেমন জমিয়ে এসেছে। গত কয়েক দিনের কাগজ দেখলেই চলবে। কাল ভাৰবো, কি করা যায়।