যাত্রার প্রথম দুদিন এত নির্বিঘ্নে কাটল, যাত্রা শুরুর আশঙ্কার আর বিন্দুমাত্র অবশিষ্ট রইল না অভিযাত্রীদের মাঝে।
বাতাসের গতি অপরিবর্তিত রইল, উত্তর-পুব দিক থেকে বইছে, ওরা চলেছে সোজা দক্ষিণে। এই গতি অব্যাহত রাখতে পারলে দিন কয়েকই পোনাপেতে পৌঁছে যাবে ওরা। আর কোন কারণে যদি দ্বীপটার কাছ থেকে সরে আসে, তাহলেও ভাবনা নেই, সীমার রুটে গিয়ে পড়বে। মারশাল আইল্যাণ্ড থেকে কুসাই, ট্রাক, পোনাপে আর ইয়্যাপেতে জাহাজ চলাচল করে। কোন না কোন জাহাজের দেখা পাবেই। কারণ ওই পথ ধরে অনেক মাছধরা জাহাজও চলাচল করে।
দিনের বেলা সূর্য ওদের কম্পাস, রাতে তারা। দাঁড় দিয়ে হলের কৃাজ চালায়। পালা করে ডিউটি দেয়। ক্রোনোমিটার নেই, সময়ও নির্ধারণ করে সূর্য আর তারা দেখে।
প্রতিটি কাণ্ডের ফাঁক দিয়েই ছলকে ওঠে পানি, ফলে সারাক্ষণই কিছুটা ভেজা থাকতে হচ্ছে ওদেরকে। তবে গরমের মধ্যে ওই ভিজে থাকাটা বরং আরামদায়ক। দিনের বেলা কড়া রোদ। অসুবিধে হয় না ওদের। সহ্য না হলে ঢুকে বসে থাকে ছইয়ের ভেতর।
বাঁশের বোতলে পানি ভরা আছে। নিচ থেকে ছলকে ওঠা, সাগরের পানি সারাক্ষণ ভিজিয়ে রাখছে বাঁশগুলোকে, ফলে ভেতরের পানি বেশ ঠাণ্ডা থাকছে। খাবার দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তবে ভাবনা নেই, দাদীমা আছে। আর তেমন ঠেকায় পড়লে মাছও ধরতে পারবে।
ভেলার আশেপাশে খেলে বেড়ায় ডলফিনের দল। শরীরের রঙ উজ্জ্বল নীল কিংবা সবুজ, পাখনার রঙ হলুদ-রোদ লাগলে সোনালিই মনে হয়। ক্যামেলিয়ন। আর অক্টোপাসের মতই রঙ বদলাতে পারে ওরা। মাঝে মাঝেই হয়ে যায় চকচকে তামাটে। লাফালাফি করতে গিয়ে সেদিন ভেলায় এসে পড়ল একটা। আর নামতে পারল না। মৃত্যুর পর রঙ বদলে ধূসর-রূপালি হয়ে গেল, তার ওপর কালো কালো। দাগ।
তিন দিনের দিন আশাকে পরীক্ষা করতে এল মস্ত এক তিমি। সোজা এগিয়ে এল ভেলার দিকে, থেকে থেকেই ফোঁস ফোঁস করে পানির ফোয়ারা ছিটাল মাথার ওপরের ফুটো দিয়ে। ভয়ে প্রায় দম আটকে বসে রইল অভিযাত্রীরা। ইচ্ছে করলেই ভেলার বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে ষাটফুটি দানবটা।
লেজের মাত্র একটা ঝাপটা, বলল উদ্বিগ্ন ররিন। ব্যস, তারপরেই আশা একেবারে নিরাশা।
ভেলাটাকে ঘিরে দুবার চক্কর মারল তিমি। তারপর লেজটাকে খাড়া ওপরের দিকে তুলে দিল ডুব। লেজ ডুবে যাওয়ার সময় এত বেশি পানি ছিটাল, অভিযাত্রীদের মনে হল এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেল তাদের ওপর।
প্রচণ্ড আলোড়ন উঠল পানিতে। ভীষণ কেঁপে উঠল ভেলা, দুলতে শুরু করল।
সর্বনাশ! চেঁচিয়ে উঠল মুসা। গোড়ালির ওপরে পানি উঠে গেছে। এই গেলাম!
তবে নৌকার তুলনায় একটা বিশেষ সুবিধে রয়েছে ভেলার। তলা নেই, কাজেই পানি জমা হয় না, ওপর দিয়ে গড়িয়ে চলে গেল, কিছু নেমে গেল ফাঁক দিয়ে।
ভেলার নিচ দিয়ে পেরিয়ে গিয়ে আবার ভউস করে আসল তিমি, আরেকবার নাকানি-চোবানি খাওয়াল ভেলাটাকে। কাঁধের ধাক্কায় আরেকটু হলেই ছিঁড়ে ফেলেছিল পাশের একটা কাণ্ডের বাঁধন।
আরও কিছুক্ষণ অভিযাত্রীদের আশঙ্কার মধ্যে রেখে অবশেষে ভু আর ভাসল না। দেখা দিল না আর একবারও।
তিমির কাঁধের ধাক্কায় ঢিল হয়ে গেছে কাণ্ডটার বাঁধন। তাড়াতাড়ি আবার সেটাকে শক্ত করল ওরা।
সেদিন সকাল থেকেই বাতাস পড়ে গেছে। ঝিরঝিরে বাতাসে পালের কোনা দুপাত ছপাত করে বাড়ি খাচ্ছে মাস্তুলের সঙ্গে। ঢেউ নেই। বাতাস না থাকায় দশগুণ বেশি হয়ে গেছে রোদের তেজ। সাগর যেন একটা মসৃণ চকচকে আয়না।
আনমনে মাথা নেড়ে বিড়বিড় করল কুমালো, ব্যাপার সুবিধের মনে হচ্ছে। হঠাৎ এরকম বাতাস পড়ে যাওয়ার মানে বিপদ।
কিন্তু আকাশে মেঘ নেই। শুধু পুবদিকে বহুদূরে কালো একটা স্তম্ভের মত দেখা যাচ্ছে, পানিতে দাঁড়িয়ে আছে যেন আকাশে মাথা তুলে।
খানিক পরে উত্তরে দেখা দিল ওরকম আরেকটা।
জলস্তম্ভ, কুমালো বলল। প্রশান্ত মহাসাগরের এদিকটায় খুব বেশি দেখা যায় ওগুলো।
বিপজ্জনক? মুসা জানতে চাইল।
কখনও কখনও, জবাবটা দিল রবিন। ডাঙায় যেমন বালির ঘূর্ণি ওঠে, অনেকটা ওরকম। তবে পানিরগুলো অনেক বড়, উদ্বিগ্ন চোখে দিগন্তের দিকে তাকিয়ে আছে সে। এই ছোট ছোটগুলো আগাম সঙ্কেত, বুঝিয়ে দিচ্ছে বড়টাও আসবে। টর্নেডোর মতই। বলা যায়, সাগরের টর্নেডো।
ডাঙার টর্নেডো তো ঘরবাড়িই উড়িয়ে নিয়ে যায়, কিশোর বলল।
যায়, বলল কুমালো। সাগরেরগুলোও কম না। একটু পরেই দেখতে পাবে। উত্তর-পূর্ব দিকে তাকিয়ে আছে সে।
তার দৃষ্টি অনুসরণ করে অন্যরাও তাকাল।
তাদের চোখের সামনেই জমে উঠল কালো মেঘ, তিন হাজার ফুট উঁচুতে। এমন ভাবে দোমড়াচ্ছে মোড়াচ্ছে, যেন জীবন্ত এক দানব। ওটা থেকে স্কুলে রয়েছে লম্বা একটা লেজের মত।
পলিনেশিয়ানরা এর নাম দিয়েছে আকাশের দানব। এ-সম্পর্কে অনেক কুসংস্কার আছে ওদের।
কালো জমাট বাঁধা মেঘটার মাঝে ঝিলিক দিচ্ছে বিদ্যুৎ।
হ্যারিক্যানের মত খারাপ নয় নিশ্চয়, আশা করল মুসা।
আরও বেশি খারাপও হতে পারে, কুমালো বলল। তবে থাকে না বেশিক্ষণ। আর হারিনের মত এত জায়গা জুড়ে আসে না। হারিক্যান আসে পাচ-ছয়শো মাইল জুড়ে, আর এটা বড়জোড় দুতিন হাজার ফুট। তবে ছোট হলে হবে কি, ভয়ঙ্কর আঘাত হানতে পারে। আমাকে জিজ্ঞেস করলে বলব এরচে হারিক্যান ভাল।
কিছু একটা করার জন্যে অস্থির হয়ে উঠেছে কিশোর। সরে যেতে পারি না, আমরা? এখানে থেকে কি ওটার খাবলা খেয়ে মরব? বলেই ছপাত করে দাঁড় ফেলল পানিতে।
অযথা শক্তি খরচ কোরো না। কোন দিক দিয়ে যে যাবে কিছুই বলা যায় না। দাঁড় বেয়ে সরে বাঁচতে গিয়ে হয়ত আরও ভেতরেই পড়ব। চুপচাপ এখন বসে বসে শুধু আশা করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।
প্রতিমুহূর্তে লম্বা হচ্ছে দানবটার লেজ। এখন দেখে মনে হচ্ছে লম্বা ঔড় বাড়িয়ে দিয়ে সাগর ছোঁয়ার চেষ্টা করছে কোন অতিকায় অক্টোপাস।
আশ্চর্য রকম স্তব্ধ হয়ে আছে বাতাস। নড়ে না চড়ে না, একদম স্থির। অথচ কানে আসছে ছুটন্ত বাতাসের ভয়ঙ্কর গর্জন।
শুঁড়টা সাগর ছুঁয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আলোড়ন উঠল ওখানকার পানিতে। শাঁ শাঁ করে শূন্যে উঠে যেতে লাগল পানি, ফোয়ারার মত।
ঘূর্ণি জেগেছে পানিতে। বাতাসের পাকের টানে ওপরের দিকে উঠে যাচ্ছে পানি, মনে হচ্ছে, পানির মোটা একটা স্তম্ভ রচনা করছে। প্রচণ্ড বাতাস বইছে ওখানে, অথচ ভেলার কাছে একরত্তি নেই। একটা নিঃশ্বাস পর্যন্ত ফেলছে না, এখানে বাতাস।
ডাঙার টর্নেভোরও এই একই ধর্ম। একটা বাড়ি হয়ত উড়িয়ে নিয়ে গেল খড়কুটোর মত, ঠিক দশ ফুট দূরেই আরেকটা ঘর রইল একেবারে অক্ষত।
আমাদের কাছে আসবে না, বলল সে।
হয়ত, বলল বটে, তবে ততটা আশাবাদী হতে পারল না কুমালো।
পাল নামিয়ে ফেলব?
লাভ হবে না। নিতে চাইলে নিয়ে যাবেই। নামিয়ে রাখলেও নেবে, উঠিয়ে রাখলেও নেবে।
দানবটার দয়ার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হবে, এই ভাবনাটাই অস্বস্তিকর। কিছু একটা করতে পারলে এতটা খারাপ লাগত না। হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে হবে। কিছুই করার নেই।
দেখার মত দৃশ্য। তিন হাজার ফুট উঁচু এক পানির স্তম্ভ। মাথাটা গোল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে মেঘের মত, নিচটা শ আকৃতির। মাঝখানে সরু একটা স্তম্ভ যোগাযোগ রক্ষা করেছে দুটোর।
গতিবেগ দুশো মাইলের কম, না! চেঁচিয়ে বলল কিশোর। কিন্তু বাতাসের প্রচণ্ড গর্জনে ঢাকা পড়ে গেল তার কথা।
ঘুরে ঘুরে ছুটে আসছে শুটা। একবার এদিকে সরে যাচ্ছে, একবার ওদিকে। কোনদিকে যাবে যেন মনস্থির করতে পারছে না।
রোদের মধ্যে উড়ছিল একটা গাংচিল। হঠাৎ হ্যাঁচকা টানে ওটাকে ভেতরে নিয়ে গেল পানির স্তম্ভ, চোখের পলকে কোথায় যে হারিয়ে গেল ওটা, বোঝাই গেল না।
সরে যেতে যেতেও হঠাৎ গতিপথ বদল করে কাছে চলে এল দানবটা। একটানে যেন ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে গেল ভেলার ছাউনি আর পাল। ডেকে উপুড় হয়ে পড়ে কাণ্ড আঁকড়ে ধরে রইল অভিযাত্রীরা।
মলিন হয়ে এল দিবালোক। চোখের সামনে শুধু পানি আর পানি। কানফাটা গর্জন। কানে আঙুল ঢোকাতে বাধ্য হল ওরা। বনবন করে ঘুরতে শুরু করেছে ভেলাটা।
হ্যাঁচকা টানে ছিঁড়ে গেল দাদীমার বাঁধন। চোখের পলকে সাগরে পড়ে অদৃশ্য হয়ে গেল কাছিমটা।
চোখ বন্ধ করে পড়ে রইল অভিযাত্রীরা।
তারপর কোথা দিয়ে যে কি ঘটে গেল, বুঝতেই পারল না ওরা। হঠাৎ নিজেদেরকে আবিষ্কার করল পানির মাঝে। চারপাশে পানি, ওপরে পানি, নিচে পানি। মাথার ওপরে একটা হাঙরকে দেখতে পেল খাবি খাচ্ছে। তবে কি ডুবে গেছে ওরা?
হঠাৎ কাত হয়ে গেল ভেলাটা। মুহূর্ত পরে কিশোর দেখল, সে একা একটা কাণ্ড আঁকড়ে ধরে আছে, অন্যেরা নেই। ভেলাটাও নেই।
আরও কয়েক সেকেণ্ড পর দেখল, সাগরে ভাসছে সে। সরে যাচ্ছে দানবটা। কি ঘটেছিল বুঝতে পারল। ওদের ওপর সরাসরি এসে পড়েনি জলস্তম্ভ, পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। যাবার সময় টান দিয়ে তুলে নিয়েছিল ভেলাটাকে। হাঙরটাকে আসলে সাগরের তলায় নয়, পানির স্তম্ভের মাঝে দেখতে পেয়েছে সে। :
সাগরের পানি স্থির। দূরে সরে গেছে পানির স্তম্ভটা। একশো ফুট দূরে একটা বাদামী মাথা ভেসে উঠতে দেখা গেল। খানিক দূরে আরেকটা মাথা।
কুমালোও! রবিইন! চেঁচিয়ে ডাকল কিশোর। মুসা কোথায়?
তোমার পেছনে, জবাব দিল রবিন।
পেছনে ফিরে তাকাল কিশোর। চল্লিশ ফুট দূরে ভাসছে মুসা। আরেকটা কাণ্ড আঁকড়ে ধরে রেখেছে।
কাছাকাছি হল চারজনে। দুটো কাণ্ডকে একসঙ্গে করে হেঁড়া দড়ির টুকরো যে কটা পাওয়া গেল, সেগুলো দিয়ে পেঁচিয়ে বাঁধল।
তারপর, বাকি কাণ্ডগুলো পাওয়া যায় কিনা খোঁজাখুঁজি শুরু করল।
তিন গোয়েন্দার সঙ্গে কুমালোও যোগ দিল। ভেলাটা যে জায়গায় ধ্বংস হয়েছে, সে জায়গাটা আন্দাজ করে নিয়ে চারপাশে তল্লাশি চালাল ওরা। কিন্তু আর একটা কাণ্ডও পাওয়া গেল না। কে জানে, হয়ত টেনে ওগুলোকে মাথার ওপরে তুলে নিয়ে চলে গেছে জলস্তম্ভ। দূরে কোথাও নিয়ে গিয়ে ফেলবে। মোট কথা, ওগুলো পাওয়ার আর কোন আশা নেই। যে দুটো পাওয়া গেছে, ওগুলোতেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে।
রোদ নেই আর এখন। মাথার ওপরে কালো মেঘ। থেকে থেকে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। ঘন ঘন বাজ পড়তে শুরু করল। আকাশের দানব চলে গেছে, এবার আসবে বোধহয় ঝড়।
মেঘের মধ্যে যেন বোমা ফাটাতে শুরু করল বজ। নামল বৃষ্টি, মুষলধারে। তবে বেশিক্ষণ রইল না। জোরাল হল ওপরের বাতাস, উড়িয়ে নিয়ে গেল মেঘ।
বৃষ্টি থামলে আরও কিছুক্ষণ কাণ্ডগুলো খুঁজল অভিযাত্রীরা। পেল না। শেষে দুটো কাণ্ডের ওপর উঠেই কোনমতে হুমড়ি খেয়ে পড়ল। চারজনের ভার বাইতে পারল না দুটো কাণ্ড, ডুবতে শুরু করল।
নেমে গেল মুসা। কাণ্ড ধরে ঝুলে রইল পানিতে। অন্যেরাও নেমে পড়ল। তার মত একই ভাবে ধরে ভেসে রইল। ঢেউ ভাঙছে মাথার ওপর। শ্বাস নিতে অসুবিধে হচ্ছে। পানি ঢুকে যেতে চায় নাকের ভেতর।
আশা এখন নিরাশায় পরিণত হয়েছে। বাঁশের বোতল আর খাবারগুলো গেছে ! পাল নেই, দাঁড় নেই, ছাউনি নেই, এমনকি নারকেল কাপড়ের পোশাকগুলোও নেই যে রোদ থেকে গায়ের চামড়া আর চোখ বাঁচাবে। দুটো মাত্র কাণ্ড, চারজনের ভর রাখতে পারে না, উঠে বসারও উপায় নেই। অন্ত্র বলতে আছে শুধু একটা করে ছুরি।
বার বার মুখ নামিয়ে পানির তলায় দেখছে রবিন। হাঙরের ভয় করছে। যেকোন মুহূর্তে হাজির হয়ে যেতে পারে ওগুলো। মুখ তুলে পানির ওপরেও খুঁজছে হাঙরের পিঠের পাখা, দূর থেকে পানি কেটে আসছে কিনা দেখছে।
তোমাদের কেমন লাগছে, জানি না, বলল সে। আমার অবস্থা কাহিল।
আহত পায়ের যন্ত্রণা অগ্রাহ্য করে হাসল কুমালো। বলল, এক কাজ কর। ভেলায় উঠে জিরিয়ে নাও খানিকক্ষণ। একজনের ভার সহজেই রাখতে পারবে এটা।
কুমালোর কথামত দুই কাণ্ডের ভেলায় উঠে চিত হয়ে শুয়ে পড়ল রবিন। খুবই বেকায়দা অবস্থা, কিন্তু এটাকেই মনে হল এখন গদির বিছানা।
অত ভাবনার কিছু নেই, শান্তকণ্ঠে বলল কুমালো। এখনও বেঁচে রয়েছি, আমরা! দুটো কাণ্ড আছে। চারটে প্যান্ট আছে। তিনটে ছুরি আছে। আর আছে তিনটে মুক্তো…..
চট করে পকেটের ওপর হাত বোলাল কিশোর। বলল, আছে।
বেশ। তাহলে ওগুলো জায়গামত পৌঁছে দেয়া এখন আমাদের দায়িত্ব। এক কাজ করতে হবে। ভেলায় উঠে একজন করে জিরাব আমরা। অন্য তিনজনে পেছন থেকে ঠেলে নিয়ে এগোব। সোজা দক্ষিণে। ঠিক আছে?
এতে খুব একটা লার্জ হবে বলে মনে হল না কারও কাছেই। তবু, চুপচাপ একজায়গায় ভেসে থেকে মরার চেয়ে কিছু করা ভাল। কুমালোর কথা মতই কাজ শুরু করল ওরা।
খুবই ধীর গতিতে আবার দক্ষিণে এগিয়ে চলল দুই কাণ্ডের আশা।