লাইব্রেরির কাজে কিছুতেই মন বসাতে পারছে না রবিন। শেষে বই গোছানো বাদ দিয়ে কোডস অ্যাণ্ড সাইফারস নাম লেখা একটা বই তাক থেকে নিয়ে টেবিলে মেলে বসল। মাথায় ঘুরছে সাতটা মেসেজ। কিন্তু বইয়ের সাহায্য নিয়ে অনেক চেষ্টা করেও কিছু বুঝল না। বিরক্ত হয়ে রেখে দিল শেষে। আশা করল, এতক্ষণে হয়তো মানে বের করে ফেলেছে কিশোর।
ছুটির পর বাড়ি ফিরে কোনমতে নাকেমুখে কিছু খুঁজে দিয়ে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ল আবার।
নিরাশ হলো হেডকোয়ার্টারে ফিরে। শূন্য চোখে তার দিকে তাকাল মুসা।
নিচের ঠোঁটে চিমটি কাটছে কিশোর। রবিনের জিজ্ঞাসু দৃষ্টির জবাবে বলল, কয়েকটা ব্যাপার মোটামুটি আন্দাজ করা যাচ্ছে, বাকি কিছুই বুঝছি না। এক নম্বর ধরো, বো-পীপ তার ভেড়া হারিয়েছে, তারমানে ছবিটা হারানোর কথা বলছে, মিসেস হাইমাসেরও তাই ধারণা।
সায় জানিয়ে মাথা ঝাকাল অন্য দুজন।
কিন্তু কল অন শারলক হোমসের মানে কি? প্রশ্ন করুল রবিন।
ডেকে আনা গেলে তো ভালই হত, মুসা বলল। ভদ্রলোকের সাহায্য এখন খুব দরকার আমাদের।
বুঝতে পারছি না, মুসার রসিকতায় কান দিল না কিশোর। পাঁচ নম্বরে আবার শারলক হোমসের কথা বলা হয়েছে : ইউ নো মাই মেথডস, থ্রি সেভেনস লীড় টু থারটিন..
মাথা কাত করল ব্ল্যাকবিয়ার্ড, বলে উঠল, থ্রি সেভার্স লীড টু থারটিন।
সেভারস? মুসা ধরল শব্দটা।
সেভেনসকেই ওরকম উচ্চারণ করে অনেক ইংরেজ, বলল রবিন। তারপর, বলল, কিশোর?
দুই নম্বরে বিলি শেকসপীয়ার যা বলছে, বলল কিশোর, কিছুই বুঝতে পারছি।
তিন নম্বরে, রবিন বলল, মনে হয় কোন জলদস্যুর দ্বীপের কথা বোঝননা হয়েছে।
একটা ম্যাপ খুলল কিশোর। এই যে, এটা লোয়ার ক্যালিফোর্নিয়া। ডিয়েগো বলেছে, তিনদিনের জন্যে চলে গিয়েছিল জন সিলভার।.হেঁটে গিয়েছিল, না কাউকে ধরে গাড়িতে করে গিয়েছিল, জানি না। ওই তিন দিনেই বাক্সটা লুকিয়ে রেখে ফিরে এসেছিল। ধরি, হেঁটেই গিয়েছিল, অন্তত যাওয়ার সময়। গাড়িতে উঠলে তার চেহারা, পোশাক আর হাতের বাক্স দেখে লোকের কৌতুহল হতে পারে, সেটা এড়ানোর জন্যে। কতদূর যেতে পারে? ক্যাটালিনা আইল্যাও? মেকসিকো? বড় জোর ডেথ ভ্যালি?
ডেথ ভ্যালি, চেঁচিয়ে উঠল মুসা। মানুষের হাড়ের অভাব নেই ওখানে। ওটাই। কিন্তু একটা ছবির জন্যে যাব ওখানে? দুদিনেই ওখানে আরও তিনটে কঙ্কাল বাড়বে।
সম্ভাবনার কথা বলছি, বলল কিশোর। ওখানেই আছে, বলিনি।
চার নম্বরে বলছে, রবিন বলল, একশো কদম পশ্চিমে। কোনও একটা নির্দিষ্ট জায়গা থেকে কোনদিকে কতখানি যেতে হবে।
তা-তো বুঝলাম, সঙ্গে সঙ্গে বলল মুসা। কিন্তু কোন জায়গা থেকে? হলিউড, নাকি ভাই? নাকি পুরো উত্তর আমেরিকা?
পাঁচ নম্বর বুঝতে পারছি না, এবারেও মুসার কথায় কান দিল না কিশোর। ছয় নম্বরে আবার দিক নির্দেশনা, এবং ঠিক কোন জায়গায় খুঁজতে হবে, বলছে।
কিন্তু আবার সেই পাথর আর হাড়ের কথা, গজগজ করুল মুসা।
ঘুরেফিরে সেই জলদস্যুর দ্বীপ, রবিন যোগ করল।
ক্যাটালিনা আইল্যাণ্ডে কখনও জলদস্যু ছিল বলে তো শুনিনি? আর, ওদিকে ওই একটা দ্বীপই আছে।
স্বর্ণ-সন্ধানের যুগে দলে দলে চোর-ডাকাত ওদিকে ছুটেছিল, মনে করিয়ে দিল কিশোর। ওদের কথাও বলে থাকতে পারে।
হ্যাঁ, তা পারে, মাথা দোলাল রবিন। এবার শেষ মেসেজটা, কি বলতে চায়? আমার মনে হয় কি জানো, এটাতেই রয়েছে জন সিলভারের প্রতিশোধ। হয়তো বলছে, সবগুলো মেসেজের মানে বের করার প্রও ছবিটা তুমি খুঁজে পাবে না।
তাহলে আর কষ্ট করে লাভ কি? হাত ঝাড়ল মুসা।
রহস্য ভালবাসে কিশোর। জটিল রহস্যের সমাধান করে আনন্দ পায়। কিন্তু গোলকধাধায় পথ হারাতে রাজি নয়। এই কেস যেন অনেকটা তাই, গোলকধাধায় ফেলে দিয়েছে তাকে, কিছুতেই কিছু করতে পারছে না। শোঁপারও অবস্থা হয়তো আমাদেরই মত, বলল সে। মাথা ঘুরছে। আমাদের তো তবু ব্ল্যাকবিয়ার্ড আছে, মেসেজ সব পেয়েছি, তার তো তা-ও নেই। তবে, চিত্র-চোর তো, কোড-ফোড নিশ্চয় আরও অনেক ভেদ করতে হয়েছে, অভ্যস্ত। হয়তো বুঝে ফেলবে। তার আগেই কিছু একটা করা দরকার আমাদের।
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর উঠে দাঁড়াল গোয়েন্দাপ্রধান, যাও, বাড়ি চলে যাও, বসে থেকে লাভ নেই। কিছু বুঝলে ফোন করে জানাব। তোমরাও বুঝলে জানিয়ো।
এত তাড়াতাড়ি ছেলেকে বাড়ি ফিরতে দেখে রবিন আর মুসা দু-জনেরই বাবামা অবাক হলেন।
পরদিন, সারাদিন ইয়ার্ডে কাজ করল কিশোর। খরিদ্দারদের জিনিসের দাম হিসেব করতে ভুল করল তিনবার।
গ্যারেজে নিজেদের গাড়ি পরিষ্কার করতে গিয়ে আরও ময়লা লাগাল মুসা।
লাইব্রেরিতে এক তাকের বই আরেক তাকে রাখল রবিন, এক বই এনে দিতে বললে ভুলে এনে দিল অন্য বই। অন্যমনস্ক। ব্যাপারটা বুঝলেন লাইব্রেরিয়ান, ছুটি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন রবিনকে।
বাড়ি এসে সোজা বিছানায় গড়িয়ে পড়ল রবিন। চিত হয়ে বালিশে মাথা রেখে খোলা জানালা দিয়ে চেয়ে রইল সান্তা মনিকা পর্বত-চূড়ার ওপরে ভেসে যাওয়া মেঘের দিকে। সাতটা প্রশ্ন অস্থির করে তুলছে তাকে।
বাড়ি ফিরে ছেলের ভাবসাব দেখে অবাক হলেন মিস্টার মিলফোর্ড। কি রে, রবিন, কি হয়েছে? শরীর খারাপ?
বাবা, একটা জিনিস বুঝতে পারছি না, একটা ধাধা, উঠে বসল রবিন। ধরো, কেউ তোমাকে বলল, আহ্যাভ বারিড মাই ট্রেজার, হোয়্যার ডেড ম্যান গার্ড ইট এভার। কি বুঝবে?
ট্রেজার আইল্যাণ্ড, দাঁতের ফাঁক থেকে পাইপ সরিয়ে বললেন মিস্টার মিলফোর্ড। রবার্ট লুই স্টিভেনসনের সেই বিখ্যাত বই, জলদস্যুদের কাহিনী।
কিন্তু ধরো, যেখানকার কথা বলা হচ্ছে, তার ধারে-কাছে কোথাও কোন দ্বীপ নেই। তাহলে গুপ্তধন আর কোথায় লুকানো থাকতে পারে?
জোরে জোরে বার দুই পাইপ টানলেন বাবা, ধোঁয়া ছাড়লেন নাক দিয়ে, তারপর বললেন, তাহলে আর একটা জায়গার সঙ্গেই ওই বর্ণনা মেলে।
কোন জায়গা? লাফিয়ে বিছানা থেকে নামল রবিন। গোরস্থান, মিটিমিটি হাসছেন তিনি।
এত জোরে টেলিফোনের দিকে ছুটে গেল রবিন, আরেকটু হলে ধাক্কা দিয়ে বাবার হাত থেকে পাইপ ফেলে দিয়েছিল।
ছেলের কাণ্ড দেখে হেসে মাথা নাড়লেন মিস্টার মিলফোর্ড, হাত-মুখ ধোঁয়ার জন্যে বাথরুমে গিয়ে ঢুকলেন।
কিশোর, ওপাশ থেকে কথা শোনা যেতেই বলল রবিন, গোরস্থান! দ্বীপ বাদ দিলে আর একমাত্র ওখানেই মরা মানুষেরা গুপ্তধন পাহারা দিতে পারে।
দীর্ঘ এক মুহূর্ত নীরবতার পর শোনা গেল আবার কিশোর পাশার কণ্ঠ, রবিন, ফোনের কাছাকাছি থেকো। কোথাও বেরিয়ো না।
খাবার টেবিলে খাবারের দিকে মন দিতে পারল না রবিন, বার বার তাকাচ্ছে ফোনের দিকে। আধপ্লেট বাকি থাকতেই বাজল ফোন। দ্বিতীয় বার রিঙ হওয়ার আগেই রিসিভার তুলে নিল সে। বলো?
রবিন, কিশোরের উত্তেজিত গলা, লাল কুকুর চার! জলদি!
রিসিভার রেখে মা-বাবার দিকে তাকাল রবিন। আমার ফিরতে দেরি হবে: রাত দশটা…
কেউ মুখ খোলার আগেই ছুটে বেরিয়ে গেল সে।
ব্যাপার কি? জিজ্ঞেস করলেন মিস্টার মিলফোর্ড। এত উত্তেজিত?
একটা হারানো কাকাতুয়া খুঁজছে, জানালেন মিসেস মিলফোর্ড, সেদিন বলেছিল আমাকে।
হারানো কাকাতুয়া? হাহ-হা, কফির কাপে চুমুক দিলেন মিস্টার মিলফোর্ড। কিন্তু গোরস্থানে কি করতে যাবে
চমকে উঠলেন মা। তাড়াতাড়ি দরজার দিকে ছুটলেন। কিন্তু রবিনকে দেখা গেল না। চলে গেছে।
প্রায় একই সময়ে লাল কুকুর চার-এর কাছে পৌঁছল রবিন আর মুসা। কোন কথা বলল না। গেট খুলে সাইকেল ভেতরে ঢুকিয়ে রেখে, জঞ্জালের তলা দিয়ে ক্রল করে এসে ঢুকল হেডকোয়ার্টারে।
ডেস্কের ওধারে মহাব্যস্ত কিশোর। এক গাদা বই, ম্যাপ, কাগজ ছড়িয়ে রয়েছে ডেস্কে। তার চেহারাই বলছে, সুসংবাদ আছে।
তাড়াতাড়ি করতে হবে আমাদের, বলল কিশোর। সে জন্যেই ডেকেছি।
মানে বুঝেছ? রবিন জিজ্ঞেস করল।
পুরোপুরি নয়। তবে কাজ শুরু করা যেতে পারে। তোমার গোরস্থান থেকেই সূত্রটা পেয়েছি।
আমার আইডিয়া নয়, বাবার, বলল রবিন, কিন্তু তার কথা কিশোরের কানে ঢুকল কিনা বোঝা গেল না। বইপত্র নিয়ে আবার ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এক সময় মুখ তুলে বলল, কিছুদূর এগিয়েছি। সাত ভাগে মেসেজগুলোকে ভাগ করেছে জন সিলভার। পাখির কথা ভুলে গিয়ে শুধু এক দুই করেই চালিয়ে যাব।
যেভাবে খুশি চালাও, গুঙিয়ে উঠল মুসা। কিন্তু জলদি আসল কথা কিছু বলো।
তিনে বলেছে গোরস্থানে ছবিটা লুকিয়ে রেখেছে জন সিলভার। তারমানে, এক আর দুই আমাদেরকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে সেখানে।
কিভাবে? রবিনের প্রশ্ন।
এক-এ বলা হয়েছে : লিটল বো-পীপ হ্যাজ লস্ট হার শীপ অ্যাণ্ড ডাজনট নো হোয়্যার টু ফাইণ্ড ইট। কল অন শারলক হোমস। অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ করেছ?
শারলক হোমস মারা গেছে, এই তো? মুসা বলল।
বইয়ের চরিত্র শারলক হোমস, মরল না বাচল, কিছু এসে যায় না। সাহায্যের জন্যে তাকে ডাকতে পারছি না আমরা, বলল রবিন।
ঠিক, তর্জনী দিয়ে বাতাসে কোপ মারল কিশোর। তাই মেসেজে কল ইন শারলক হোমস না বলে বলা হয়েছে কল অন…মানে? তার বাড়ি গিয়ে দেখা করো। কোথায় বাড়ি শারলক হোমসের?
লণ্ডনে, জবাব দিল মুসা।
লণ্ডনে, বেকার স্ট্রীটে, বলল রবিন।
বেশ, কিশোর বলল, তাহলে তাকে খুঁজতে বেকার স্ট্রীটেই যেতে হবে আমাদের। দুইয়ে বলা হচ্ছে, টু-টু-টু বি আর নট টু-টু-টু বিকাকাতুয়া পাখি, তোতলায় না, তার জিভ আর কণ্ঠনালীর গঠনই এরকম, তোতলামি রোগই হয় না। তার মানে? ইচ্ছে করেই শেখানো হয়েছে, যেটা আগেই সন্দেহ করেছিলাম।
তাতে কি? মুসার জিজ্ঞাসা।
একটা কাগজে কিছু লিখল কিশোর। এই যে, দেখো, বাড়িয়ে দিল দুজনের দিকে।
লিখেছে : বেকার স্ট্রীট ২২২বি।
আরি! চমকে গেল মুসা। ঠিকানা!
গোরস্থানের? ভুরু কোঁচকাল রবিন।
ম্যাপের স্তুপ থেকে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার পুরানো একটা ম্যাপ বের করল কিশোর। শত শত শহর রয়েছে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায়, একাধিক বেকার স্ট্রীট। তবে, কবরস্থানই পথ দেখিয়েছে। এই যে, লস অ্যাঞ্জেলেসের দক্ষিণে একটা শহর, মেরিটা ভ্যালি। আর এই যে বেকার স্ট্রীট, আর এটা ভ্যালি স্ট্রীট, আড়াআড়ি কেটেছে দুটো পথ, এক কোণায় আঙুল রাখল সে, এই যে, গোরস্থান। এটার কেয়ারটেকারের বাড়ির নম্বর, টু-টু-টু বি।
আরিসব্বোনাশ! জানলে কি করে? মুসা অবাক।
এই যে রেফারেন্স বইগুলো ঘেঁটে, ডেস্কে ছড়ানো বইগুলো দেখাল কিশোর। তাছাড়া টেলিফোন তো আছেই। গোরস্থানের ওপর লেখা একটা পুস্তিকা পেয়েছি, ট্যুরিস্টদের জন্যে ছাপা হয়েছে। শোনো, পুস্তিকা খুলে পড়তে শুরু করল, ক্যালিফোর্নিয়ার সব চেয়ে পুরানো কবরস্থানগুলোর অন্যতম মেরিটা ভ্যালির গোরস্থান। এখন অব্যবহৃত, অযত্নে পড়ে আছে। শোনা যাচ্ছে, শিগগিরই সংস্কার করে ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। পুস্তিকাটা বন্ধ করল। স্যানটিনো
আর ডিয়েগো যেখানে থাকে, সেখান থেকে জায়গাটা মাত্র তিরিশ মাইল দূরে। তিন। দিনে হেঁটে গিয়ে হেঁটে ফিরে আসা সম্ভব ছিল না অসুস্থ জন সিলভারের পক্ষেও।
বাকি মেসেজগুলো কি বলে? জিজ্ঞেস করল রবিন। বুঝেছ?
না, এখানে বসে বোঝা যাবে না। গোরস্থানে গিয়ে মেলাতে হবে।
চলো, কাল ভোরেই রওনা হয়ে যাই। রোলস-রয়েসের কথা বলে রাখতে হয়, বলল মুসা।
শোঁপা এতক্ষণে বুঝে ফেলেছে কিনা কে জানে, হাত ওল্টাল কিশোর। বুঝলে সময় নষ্ট করবে না। আমাদেরও করা উচিত হয়। সকাল হতে অনেক দেরি। বেলা আছে এখনও। তাড়াহুড়ো করলে আঁধার নামার আগেই ফিরে আসতে পারব। তবে সবাই এক সঙ্গে যেতে পারছি না…
কেন?
শোঁপা নিশ্চয় লোক লাগিয়ে রেখেছে, চোখ রেখেছে আমাদের ওপর। রোলস-রয়েসটা চোখে পড়বেই। আমাদের পিছু নেবে।
তাহলে?
কি কি করতে হবে, দ্রুত ব্যাখ্যা করল কিশোর। ক্ষীণ প্রতিবাদ জানাল রবিন, কিন্তু গোয়েন্দাপ্রধানের জোরাল যুক্তির কাছে টিকল না।
কয়েক মিনিট পর হাজির হলো রোলস-রয়েস।
ধীরেসুস্থে চড়ল তাতে তিন গোয়েন্দা, কেউ যদি চোখ রেখে থাকে, যেন সে ভালমত দেখতে পারে।
ছুটি শেষ হয়নি হ্যানসনের। আজও গাড়ি নিয়ে এসেছে ক্র্যাব। হলদে দাঁত বের করে হাসল। পাখি খুঁজে পেয়েছ এক-আধটা?
কয়েকটা, লোকটার কথার ধরন পছন্দ হলো না কিশোরের। একটাকে পুলিশেও খুঁজছে। চালান এখন। সামনের গেট দিয়ে বেরিয়ে ঘুরে পেছনের রাস্তায় চলে যান। রাস্তায় গিয়ে খুব ধীরে চালাবেন, থামবেন না।
পাত্তা না পেয়ে মুখ কালো করল ড্রাইভার। তবে যা বলা হলো করল।
গাড়ি পেছনের রাস্তায় আসতেই রবিনকে হেডকোয়ার্টারে থেকো বলে দরজা খুলে ডাইভ দিয়ে লাল কুকুর চারের কাছে নেমে পড়ল কিশোর। মুসাও নামল।
তারপর, মাস্টার মিলফোর্ড? মুখ গোমড়া করে বলল শোফার। কোথায় যাব? কাকাতুয়া ধরতে?
না, কিশোর আর মুসার সঙ্গে যেতে না পারার ক্ষোভ চাপতে পারছে না রবিন। উপকূল ধরে চালান আধঘণ্টা। তারপর পুবে মোড় নিয়ে কোন একটা গিরিপথের ভেতর দিয়ে ফিরে আসবেন এখানে।