৯. মেরিটা ভ্যালির গোরস্থান

0 Comments

ট্রাক ছুটছে।

অনেকক্ষণ কোন কথা বলতে পারল না ছেলেরা।

একটা ব্যাপারে নিশ্চিন্ত, অবশেষে বলল কিশোর। হারামী হোক আর যাই হোক, কুয়াশা আমাদের বাঁচিয়ে দিয়েছে। পিছু নিতে পারেনি শেপার দল।

কেন পিছু নেবে? মুসা বলল। ছবিটা পাইনি আমরা।

ওদের ধারণা, পেয়েছি, নিচের ঠোঁটে চিমটি কাটতে শুরু করল কিশোর। খুব একচোট দেখিয়েছে জন সিলভার। সাংঘাতিক রসিকতা। এত কষ্টের পর পাওয়া গেল খালি বাক্স, তার ওপর আবার একটা নোট।

জাহান্নামে যাক ব্যাটারা, কিশোরের কথায় বিশেষ কান নেই মুসার। এখন আসুক। বোরিস আছে আমাদের সঙ্গে। পিটিয়ে তক্তা করে দেব। হাতের পাইপটা দেখাল সে। এখনও রয়েছে ওটা তার হাতে, ফেলেনি এত কিছুর পরও। তার কারণ, এটা একটা অস্ত্র। টমাসের বাচ্চাকে যদি আরেকটা খিচতে পারতাম! দাতে দাঁত চাপল সে।

যা একখান খিচেছ সেটাই জিন্দিগিভর মনে রাখবে, মাথায় লাগলে মরেই যেত, বলল কিশোর। দারুণ দেখিয়েছ আজ তুমি, মুসা। আমিও অনেকদিন মনে রাখব।

অবাক হলো মুসা, খুশিও। কিশোর পাশা প্রশংসা করছে। যে শুধু লোকের দোষ ছাড়া আর কিছু দেখে না (মুসার ধারণা) যাক, আজ তাহলে দেখিয়ে দিতে পেরেছে গোয়েন্দাপ্রধানকে, সুযোগ পেলে সে-ও মনে রাখার মত কিছু করতে পারে।

মেসেজের মানে তো বের করলাম, বলল কিশোর। বাক্সটাও পেলাম। কিন্তু ছবি কই?

বলেছেই তো : আই নেভার গিভ আ সাকার অ্যান ইভন ব্রেক, মনে করিয়ে দিল মুসা। হাইমাসের ওপর প্রতিশোধ নেয়ার জন্যে।

হয়তো, ভাবনায় ডুবে গেল কিশোর।

সারা পথে আর কোন কথা হলো না। কিশোর ভাবতেই থাকল, মুসাও বাধা দিল না।

রকি বীচে ঢোকার আগে খানিক দুর হালকা কুয়াশার ভেতর দিয়ে আসতে হয়েছে। ছড়িয়ে পড়েছে কুয়াশা। মেরিটা ভ্যালির গোরস্থানে এখন কি অবস্থা ভাবতেই রোম খাড়া হয়ে গেল মুসার।

জোর বাতাস বইতে শুরু করল, দ্রুত দক্ষিণে সরে গেল কুয়াশা।

নিরাপদেই স্যালভিজ ইয়ার্ডে ঢুকল ট্রাক।

চলে হেডকোয়ার্টারে, মুসাকে বলল কিশোর। রবিন নিশ্চয় বসে আছে।

অধীর হয়ে আছে রবিন। বসতে পারছে না। খালি ছটফট করছে, পায়চারি করছে ট্রেলারের ছোট্ট পরিসরে।

দুজনকে দেখেই চেঁচিয়ে উঠল সে, পেয়েছ?

কিন্তু বন্ধুদের মুখ দেখেই প্রশ্নের জবাব পেয়ে গেল রবিন। কারও হাতেই বাক্স নেই, মুসার হাতে শুধু পাইপটা। অস্ত্র অনুমান করতে কষ্ট হলো না রবিনের, মারপিট করে এসেছে মুসা।

শোঁপা ধরে ফেলেছিল, ধপাস করে গিয়ে নিজের চেয়ারে গড়িয়ে পড়ল কিশোর।

তবে ছবিটা সে-ও পায়নি, যোগ করল মুসা। নিজের সীটে বসল। বাক্সটা পাওয়া গেছে, ভেতরে শুধু একটা নোট। তাতে লেখা, মেসেজটার মানে নাকি ঠিকমত করতে পারিনি।

তাই? বলল রবিন। অবাক কাণ্ড! জন সিলভার শুধুই রসিকতা করল? খালি খাটানোর জন্যে? নো রেজাল্ট?

আমার তা মনে হয় না, চেহারা বিকৃত করে রেখেছে কিশোর। তাহলে অন্য কিছু লিখত। মেসেজটার মানে ঠিকমত করা হয়নি, একথা লিখত না।

আগেই বলেছিলাম… বলা আর হলো না, ফোন বেজে উঠল।

পরস্পরের দিকে তাকাল ওরা। কে? এখন তো কারও ফোন করার কথা নয়।

হবে হয়তো মিসেস হাইমাস, বলতে বলতে রিসিভার তুলে নিল কিশোর, স্পীকারের সুইচ অন করে দিয়ে বলল, হালো, তিন গোয়েন্দা।

কংগ্রাচুলেশনস, ইয়াং ডিটেকটিভস, শুকনো হাসির সঙ্গে বলল একটা খনখনে কণ্ঠ, কথায় কড়া ফরাসী টান।

কার গলা ঠিকই বুঝতে পেরেছে কিশোর, তবু জিজ্ঞেস করল, কে বলছেন?

এত তাড়াতাড়িই ভুলে গেলে? এই তো খানিক আগে মেরিটা ভ্যালির গোরস্থানে দেখা হয়েছিল। তোমাদের সঙ্গে কয়েকটা কথা বলার লোভ সামলাতে পারলাম না। জন সিলভার খুব বোকা বানিয়েছে আমাকে। আর ঘোরাঘুরি করে কি লাভ? আমি পরাজিত, হতাশা ঢাকতে পারল না এনথনি শোঁপা।

চুপ করে রইল কিশোর।

এয়ারপোর্ট থেকে বলছি, আবার বলল শোঁপা। চলে যাচ্ছি আমি। পুলিশকে জানাতে পারো, লাভ হবে না। ওরা ধরতে পারবে না আমাকে। কেন ফোন করেছি জানো? আরেকবার তোমাদের প্রশংসা করতে। হাইমাসকে বলবে, আমি তার শুভকামনা করছি।

থ্যাংক ইউ, শুধু বলল কিশোর।

আমাকে টেক্কা দিয়েছ তোমরা, আবার বলল শেপা, আজতক আর একজন কি দুজন সেটা পেরেছে। দাওয়াত দিয়ে রাখছি। যদি কখনও ইউরোপে বেড়াতে আসসা, খুঁজে বের কোরো আমাকে। ইচ্ছে করলে সেটাও পারবে তোমরা, আমি জানি। ফ্রান্সের অপরাধ জগত ঘুরিয়ে দেখাব তোমাদের। কত রহস্য, কত রোমাঞ্চ আর উত্তেজনা যে লুকিয়ে আছে সেখানে, কল্পনাও করতে পারবে না। আরেকটা কথা, হয়তো ভাববে চোরের উপদেশ কি শুনব? তবু বলছি, মানুষের কল্যাণে লাগিয়ে তোমাদের মেধা, মানুষের উপকার কোরো, আমার মত চোর হয়ো না। তোমাদের ওপর হয়তো অনেক অন্যায় করেছি, কষ্টও দিয়েছি, মাপ কোরো।

কি যে বলেন, এতই অবাক হয়েছে কিশোর, মিটমিট করছে চোখের পাতা।

কিশোর, আবার বলল শোঁপা, লেকচারের মত শোনাচ্ছে কথাগুলো, তবু বলছি, তোমার দেশ, বাংলাদেশে গিয়েছিলাম একবার। আহা, কি যে কষ্ট ওখানকার মানুষের। চোখে না দেখলে বিশ্বাস হয় না। বড় হয়ে তোমার দেশে চলে যেয়ো, যদি কোনভাবে পারো, সাহায্য কোরো দেশের মানুষকে..ওরা সত্যি বড় অসহায়…

জোরে জোরে নিচের ঠোঁটে চিমটি কাটছে কিশোর, কি যেন মনে পড়ি পড়ি করেও পড়ছে না। কিন্তু মনে পড়ে গেল হঠাৎ। মশিয়ে শোঁপা, আপনি সেই লোক নন তো? ফ্রান্সের গরীব-দুঃখীরা যাকে আধুনিক রবিন হুড বলে?

ও হ্যাঁ, আরেকটা কথা, কিশোরের প্রশ্ন এড়িয়ে গেল শোঁপা, কাকাতুয়াগুলো ওশেন স্ট্রীটের একটা গ্যারেজ আছে, ঠিকানাটা লিখে নাও চট করে…

দ্রুত লিখে নিল রবিন।

অউ রিভোয়া, মাই বয়েজ, বলল শোঁপা, অ্যাণ্ড এগেন কংগ্রাচুলেশনস।

কেটে গেল লাইন।

অদ্ভুত একটা পরিবেশ সৃষ্টি হলো হেডকোয়ার্টারে। অনেকক্ষণ কেউ কোন কথা, বলতে পারল না। যেন অতি পরিচিত একজন বন্ধু চলে গেল ওদের।

কে ওই আধুনিক রবিন হুড? জিজ্ঞেস করল মুসা।

আমিও শুনেছি ওর নাম, বলল রবিন। দুর্দান্ত এক দস্যু। সেই প্রাচীন কথাটা—ধনীর যম, গরীবের বন্ধু…।

আমি পাল্টে দিচ্ছি কথাটা, কিশোর বলল। উৎপীড়কের যম, উৎপীড়িতের বন্ধু…দুনিয়ার সব ধনীরাই খারাপ নয়…যাই হোক, আমাদের আসল আলোচনা থেকে অনেক দূরে সরে গেলাম।

হ্যাঁ, ছবিটা কোথায় থাকতে পারে? পাইপ দিয়ে হাতের তালুতে আস্তে বাড়ি দিল মুসা। আরে অমন করে চেয়ে আছো কেন আমার দিকে…

ছয় নম্বর মেসেজে কি বলা হয়েছে? নিঃশ্বাস ভারি হয়ে আসছে কিশোরের।

লুক আণ্ডার দা স্টোনস বিয়ণ্ড দা বোনস ফর দা বক্স দ্যাট হ্যাজ নো লকস, জবাব দিল রবিন।

কিন্তু মূসা, কিশোর বলল, ডিংকি যে বাক্সটা পেয়েছে, ওটাতে তালা লাগানো ছিল। অথচ মেসেজে পরিষ্কার বলছে, ছবি যেটাতে থাকবে তাতে কোন তালা থাকবে না।

ঠিক! চেঁচিয়ে উঠল মুসা, আরেকবার পাইপ দিয়ে বাড়ি দিল হাতের তালুতে। আরেকটা বাক্স আছে…না। আর থাকতে পারে না। খুব ভালমত খুঁড়েছে ডিংকি।

কিন্তু এমন যদি হয়? হাতের তালুতে খুঁতনি রাখল কিশোর। ঘোট অন্য কোন ধরনের বাক্স? যেটাকে বাক্স মনে হবে না? আচ্ছা, সাত নম্বরে কি লিখেছে?

আই নেভার গিভ আ সাকার অ্যান ইভন ব্রেক, বলল মুসা। স্কারফেসকে ওকথাই বলতে শুনেছি, না রবিন?

হ্যাঁ, রবিন মাথা ঝাকাল। তবে তার সঙ্গে ব্ল্যাকবিয়ার্ড যযাগ করেছে, অ্যাণ্ড দ্যাটস আ লেড পাইপ সিশ। এটাও আরেকটা পুরানো স্যাঙ।

তাই? আপনমনে বলল কিশোর। প্রথম স্ল্যাঙে দৃষ্টি দূরে সরানো হয়েছে, তার পরেরটায় দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, তাই তো বোঝায়? নাকি?

দূর! ঠকাস করে পাইপটা টেবিলে নামিয়ে রাখল মুসা। মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে আমার।

মুসা, পাইপটা কোথায় পেয়েছ? জিজ্ঞেস করল কিশোর।

কেন জানো না? মুসা অবাক। গোরস্থানে। ডিংকি তুলে ছুঁড়ে ফেলেছিল।

ঝট করে পাইপটার দিকে চোখ চলে গেল রবিনের।

খাঁচার ভেতরে অযথাই ডানা ঝাপটাল একবার ব্ল্যাকবিয়ার্ড।

এটা দিয়েই খিচেছিলাম জনাব টমাস মিয়াকে, হেসে রবিনকে বলল মুসা।

ওই একই জায়গায় পাওয়া গেছে, যেখানে বাক্সটা পাওয়া গেছে, মুসার কথা কানেই ঢুকছে না যেন কিশোরের।

এবং এটা সীসার পাইপ, যোগ করল রবিন।

চোখ বড় বড় হয়ে যাচ্ছে মুসার।

এবং রবিনের কথার সঙ্গে যোগ করল কিশোর, সীসার পাইপ আজকাল খুব রেয়ার, কেউ ব্যবহার করে না। মাথায় দেখো, ক্যাপ লাগান রয়েছে। ভেতরের জিনিস সহজে নষ্ট হবে না।

তালাও নেই, থাবা দিয়ে পাইপটা তুলে নিল মুসা। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে খুলতে শুরু করল ক্যাপ। এই প্রথম খেয়াল করল, পাইপটা চোদ্দ ইঞ্চির মত লম্বা।

ক্যাপটা টেবিলে রেখে পাইপের ভেতরে আঙুল ঢুকিয়ে দিল মুসা। টেনে বের করে.আনল গোল করে পাকান এক টুকরো ক্যানভাস।

খুলে টেবিলে বিছাল।

হাঁ হয়ে গেল তিন গোয়েন্দা।

চোদ্দ বাই চব্বিশ ইঞ্চি ক্যানভাসের টুকরো। তাতে আঁকা রয়েছে অপরূপ সুন্দরী এক কিশোরী, মধ্যযুগীয় মেষপালিকার পোশাক পরনে, এক মেষশিশুর ভাঙা পায়ের পরিচর্যা করছে। ছবি সম্পর্কে তেমন কোন ধারণা নেই ওদের, তবু স্বীকার করে পারল না, অপূর্ব! দক্ষ শিল্পীর তুলির ছোঁয়ায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে, যেন এখুনি ভেড়ার বাচ্চা কোলে তুলে নিয়ে নাচতে নাচতে চলে যাবে মেয়েটা।

মাস্টারপীস, কোন সন্দেহ নেই।

রামধনুর এক টুকরো, বিড়বিড় করল কিশোর, এক পাত্র সোনা। ঠিকই বলেছে জন সিলভার। এত অল্প কথায় এর চেয়ে ভাল বর্ণনা আর হয় না।

ঘুম পাতলা হয়ে এসেছিল বোধহয় ময়নার, জন সিলভার নামটা কানে যেতেই ধড়মড়িয়ে উঠে দাঁড়াল। বার দুই ডানা ঝাপটে বলল, আমি জন সিলভার। কি সুন্দর ছবি, আহা! খুক খুক করে কাশল কয়েকবার, যেন ভারি হয়ে কফ জড়িয়ে গেছে গলায়। তারপর আবার ঠোঁট জল পালকের তলায়, ঘুমিয়ে গেল।

তিন গোয়েন্দার মনে হলো, ব্ল্যাকবিয়ার্ড নয়, কথাগুলো বলল স্বয়ং জন। সিলভার।

দুই দিন পর। বিখ্যাত চিত্রপরিচালক মিস্টার ডেভিস ক্রিস্টোফারের অফিসে ঢুকল তিন গোয়েন্দা।

খবরের কাগজ পড়ছেন পরিচালক। ইঙ্গিতে ছেলেদেরকে চেয়ার দেখিয়ে দিয়ে আবার পড়ায় মন দিলেন।

পড়া শেষ হলে কাগজটা ভাঁজ করে রেখে দিলেন। হু। পত্রিকার খবর হয়ে গেছ দেখছি। ছবিও ছাপা হয়েছে।

ফাইলটা পরিচালকের দিকে ঠেলে দিল রবিন।

টেনে নিয়ে খুললেন মিস্টার ক্রিস্টোফার। পাতা উল্টে চললেন একের পর এক।

ঘরে পিনপতন নীরবতা। অপেক্ষা করে আছে ছেলেরা।

ফাইল পড়া শেষ করলেন পরিচালক। ঘড়ি দেখলেন। আজকে সময় খুব কম। জরুরী কাজ আছে। সংক্ষেপে কয়েকটা প্রশ্নের জবাব দাও তো। কাকাতুয়াগুলো কি করেছ?

বিলি শেকসপীয়ার আর লিটল বোপীপকে যার যার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছি, জবাব দিল কিশোর। অন্যগুলোর তো মালিক নেই, হাইমাসের স্ত্রীকে নিতে বলেছি, রাজি হয়নি। ভাবছি মিস কারমাইকেলের পাখির আশ্রমেই দিয়ে আসব।

হ্যাঁ, সেই ভাল হবে, একমত হলেন পরিচালক। তা হাইমাসের খবর কি? তার অসুখ?

পুরোপুরি ভাল হয়নি এখনও, রবিন বলল। আরও কয়েক দিন লাগবে।

মিসেস হাইমাস তোমাদের এক হাজার ডলার দিয়েছে?

দুই হাজার দিয়েছে। এত দামী ছবি খুঁজে পাওয়ার খুশিতে আত্মহারা মহিলা, বলল কিশোর।

খুব ভাল। অনেক টাকা। আচ্ছা, ডিয়েগো আর তার চাচার কি খবর?

দুই হাজার ডলারই মিস্টার স্যানটিনোকে দিয়ে দিয়েছি আমরা, বলল কিশোর। টাকাটা তো আসলে তারই প্রাপ্য। জন সিলভারকে আশ্রয় দিয়েছিল, খাইয়েছিল। কবর দিয়েছিল। এই কেসে যে আনন্দ আমরা পেয়েছি, আমরা তাতেই খুশি।

এক মুহূর্ত চুপ করে রইলেন পরিচালক। মনে মনে বোধহয় প্রশংসা করছেন। ছেলেদের। স্যানটিনো কোথায়?

মেকসিকো চলে গেছে, বাড়িতে। অনেক টাকা পেয়েছে, ওখানে গিয়ে ফুলের বাগান করতে পারবে। কাশির চিকিৎসাও করাতে পারবে, বলল কিশোর।

আর ডিয়েগো?

ও-তো মহাখুশি, স্যার, বলে উঠল মুসা। অটো কোম্পানিতে গিয়েছিলাম আমরা তিনজনে। ম্যানেজারকে অনুরোধ করতেই রাজি হয়ে গেল। ডিয়েগোকে অ্যাপ্রেনটিস হিসেবে নিয়ে নিয়েছে। মনের মত কাজ পেয়ে ডিয়েগো খুশির ঠেলায় রোজ দশবার করে ফোন করে আমাদের।

ভাল হয়েছে। গাড়ির জগতে যুগান্তকারী কিছু করে বসলেও অবাক হব না। মেধা আছে।..ততা, কিছু খাবে? আইসক্রীম…

না, আপনার তাড়া আছে বললেন, তাড়াতাড়ি হাত তুলল কিশোর। আরেকদিন। আজ যাই।

ঠিক আছে, এসো। গুড বাই, ইন্টারকমের সুইচ টিপলেন তিনি, সেক্রেটারিকে জরুরী নির্দেশ দেয়ার জন্যে।

দরজার কাজে চলে এসেছে তিন গোয়েন্দা, পেছন থেকে ডাকলেন পরিচালক, কিশোর?

ফিরে তাকাল তিনজনেই।

এনথনি শোঁপাই ফ্রান্সের আধুনিক রবিন হুড, বললেন তিনি। মহাপুরুষ হওয়ার মত অনেক গুণ আছে তার। তার উপদেশ মনে রেখো।

রাখব, স্যার, একই সঙ্গে মাথা কাত করল তিন গোয়েন্দা।

Categories: